রোজা রেখে প্রচন্ড গরমের মাঝেও পদ্মার চরে ত্রাণ নিয়ে হাজির জাহাঙ্গীর আলম

করোনার সংক্রমণ এড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের এ সব নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম । নিজ অর্থায়নে প্রথম থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটু বেশি তৎপর ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে।
উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ২ টি পৌরসভার এমন কোন এলাকা নেই, যেখানে উপজেলা চেয়ারম্যানের হাতে ত্রাণ পায়নি মানুষ। এমনকি তিনি নিজের কাঁধে করে রাতের আধাঁরেও বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। অসহায় কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করেছেন খাদ্যসামগ্রী।
তার ধারাবাহিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে রোজা রেখেও প্রচন্ড গরমের মাঝে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ভারতীয় সীমান্তবর্তী চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন এই চেয়ারম্যান। তার এই আন্তরিক প্রচেষ্টা নজর কেড়েছে গোদাগাড়ী উপজেলাবাসীর।
তিনি দিনরাত সমানতালে ছুটে চলছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। জনগণকে সচেতন করা, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের খোঁজ-খবর রাখছেন। শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক, শিশুদের খাবার ও হ্যান্ড সানিটাইজার বিতরণেও পিছিয়ে নেই।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধাজ্ঞায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কার মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর পরামর্শে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে অস্বচ্ছল এবং হতদরিদ্র সকল পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী। এমনকি এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানের হট লাইনের নম্বরে কল বা এসএমএস দিলেই পৌছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাইরে বের হতে না পারলে খাদ্যের সংকট দেখা দেবে, দিনমজুর ও ভিক্ষুকদের পরিবারে। তাই ত্রাণ দুর্যোগ শাখার বরাদ্দে প্রতি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নিজ হাতে পৌছে দিয়েছি।
নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ কেজি চাল, ১০ কেজি আলু ও ১ কেজি ডাল এবং ১ লিটার তেল, একটি সবানসহ অনেক কিছু মিলে একটি প্যাকেট করা হয়েছে। এসব প্যাকেট বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রিক্সা চালক-ভ্যান চালক, কুলি, ট্রলি চালক, দিন মজুর, রাজমিস্ত্রিসহ সকল শ্রেণী পেশার অসহায় মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
উপজেলাবাসীর উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। আপনাদের পাশে সব সময় এমনভাবে থাকতে চাই। করোনা ভাইরাসের মহামারিতে উপজেলার কোন মানুষ যাতে না খেয়ে থাকে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে।
আরপি/ এআর
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: