রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১


মা ভারসাম্যহীন হাসপাতালে, তবুও আগলে রাখলেন মৃত সন্তানকে!


প্রকাশিত:
৫ আগস্ট ২০২১ ১৬:১৩

আপডেট:
১৬ জুলাই ২০২৪ ১২:০৪

মৃত সন্তানকে আগলে রেখেছেন ভারসাম্যহীন মা। ছবি: সংগৃহীত

মায়ের সাথে কারো তুলনা হয় না। সন্তানের জন্য সবকিছুই উজাড় করে দিতে পারেন তিনি। মারা গেলেও ছেড়ে যান না মা। তবে যদি তিনি ভারসাম্যহীন হন? তাও আবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়? ছবিটি দেখে মনে হতে পারে মা নিজ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় ঘুমাচ্ছেন। হ্যাঁ, হাসপাতালের বিছানায় ঘুমাচ্ছেন ঠিকই তবে পাশের সন্তানটি মৃত! শুরুর দিকে সন্তান মারা যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পরেছেন।

কিছুক্ষণ পর পর হাউমাউ করে দেখেছেন, কাঁদিয়েছেন অন্য বেডের রোগী-স্বজনদের। গর্ভের সন্তানকে কাউকে ছুঁতে দেননি মানসিক ভারসাম্যহীন মা। হাসপাতালের বিছানা থেকে নামাতে গেলেই তেড়ে এসেছেন।

ঘটনাটি খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আড়াই বছরের শিশুকে গত ১ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর থেকে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার (০৪ আগষ্ট) রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ আগস্ট শিশুটিকে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী মাটিরাঙ্গা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করতে দেখে একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক শিশুটির শরীর পরীক্ষা করে প্রচণ্ড জ্বর পান। হাসপাতালে ওই নারী এক সময় একেক নাম বলেন। তবে শিশুটির নাম খোরশেদা বলেজানান। এসময় চিকিৎসক শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পঠিয়ে দেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দীপংকর ধর বলেন, শিশুটির প্রচণ্ড জ্বর ছিল। হাসপাতালে আনার পর থেকে শিশুটির মা অসংলগ্ন কথা বলেন। এমনকি শিশুটিকে পরীক্ষা করতে গেলে চিৎকার করেন। পরে উপজেলা সমাজসেবার মাধ্যমেআমরা খাগড়াছড়ি পাঠিয়ে দেয়।

এদিকে সদর হাসপাতালে শিশুটির নাম লেখা হয় মোর্শেদা। হাসপাতালেআনার পর থেকে নার্স, আয়াসহ স্থানীয়রা শিশুটির বাড়তি যত্ন নেন। এরপরও প্রচণ্ড জ্বর, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। রাত ৮টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শিশুটির পরিবারের সন্ধান না পাওয়ায় পৌরসভার মাধ্যমে দাফন করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রশিদ জানান, শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন। মাটিরাঙ্গাসহ আশপাশের থানায় খবর পাঠিয়েও পরিবার পরিজনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তাই আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পৌরসভার মাধ্যমে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

আরপি/আআ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top