সালিশি বৈঠকে ধর্ষককে আড়াল, ধর্ষণে সহযোগীর সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। সোমবার নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের চেচুয়াজানী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় হেলাল মাস্টারের নেতৃত্বে সালিশি বৈঠকে টাকার বিনিময়ে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে ধর্ষণে সহযোগীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছেন মাতবররা।
ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা ৫ জনকে আসামি করে নাগরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ইরতা গ্রামের ডিভোর্সকৃত মেয়ের সঙ্গে চেচুয়াজানী গ্রামের নুর আলমের মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের টানে শুক্রবার সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় অটোযোগে নুর আলম ও তার সহযোগীসহ ঘুরাফেরা করে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে চেচুয়াজানী গ্রামের রাব্বেলের শ্যালো মেশিন ঘরে নুর আলম তার চার বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। রাত গভীর হলে নুর আলম মেয়েটিকে রাস্তায় রেখে পালিয়ে যায়। পর দিন সকালে মেয়েটি কোনো উপায় না পেয়ে বিয়ের দাবিতে নুর আলমের বাড়িতে অবস্থান করে।
তিন দিন ওই বাড়িতে অবস্থান করার পর মেয়ের বাবা নাগরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ইতোমধ্যে নুর আলমের সঙ্গে মেয়েটির আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চেচুয়াজানী গ্রামের অতিউৎসাহী হেলাল মাস্টার, হাকিম মিয়া ও সাবেক বাদশা মেম্বারসহ মাতবররা মেয়ের বাবাকে চাপপ্রয়োগ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে চেচুয়াজানীর মো. শুক্কুন মিয়ার বাড়িতে হেলালের নেতৃত্বে সালিশি বৈঠক হয়। অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত দোষীকে আড়াল করে সালিশি বৈঠক করা হয়।
বৈঠকে চেচুয়াজানী গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে নুর আলমকে ১ লাখ টাকা এবং ধর্ষণে সহযোগিতা করায় মো. বাদল মিয়ার ছেলে মনির, মো. রহিম মিয়ার ছেলে রাব্বেল, মো. সেলিম মিয়ার ছেলে নাছির ও বাবুল মিয়ার ছেলে রমেজকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
এদের মধ্যে বাবুল মিয়ার ছেলে রমেজ অতিদরিদ্র ও নিরীহ হওয়ায় জরিমানার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। রমেজের পরিবার জরিমানার টাকা দিতে না পারায় উল্লেখিত মাতবররা জোরপূর্বক মেয়েটিকে রমেজের সঙ্গে বিয়ে দেন। জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা মেয়েকে দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১ লাখ টাকা রমেজের বড়ভাই মিজানের হাতে তুলে দেন কথিত মাতবররা।
রমেজের বড়ভাই মিজানুর বলেন, আমার ভাই এ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত না। শুধু নুর আলমের সঙ্গে থাকার কারণে এবং আমাদের দরিদ্রতার সুযোগে মেয়েটিকে আমার ছোটভাইয়ের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেন। জরিমানার সব টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আমার হাতে মাত্র ১ লাখ টাকা ধরিয়ে দেন। বাকি টাকার জন্য যোগাযোগ করা হলে বিভিন্ন টালবাহানা দেখায়।
ভুক্তভোগীর পিতা বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে আমি নাগরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। পরে চেচুয়াজানী গ্রামের মাতবররা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সালিশি বৈঠক করেন। আমার মেয়েকে রমেজের সঙ্গে বিয়ে দেন। তবে কার কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে তা আমাকে জানায়নি।
বৈঠকে নেতৃত্ব প্রদানকারী হেলাল মাস্টার বলেন, ওই সালিশে আমি উপস্থিত ছিলাম না। এলাকার মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছেন।
অভিযোগের তদন্তকারী এসআই মো. আরফান খান বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য আমি ঘটনাস্থলে যাই। বিষয়টি সমাধানের জন্য এলাকাবাসী সময় নেন। পরে রমেজের সঙ্গে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়।
আরপি/ এসআই
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: