রাজশাহী রবিবার, ২৬শে জুন ২০২২, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৯


তিন শতাংশ ছাড়লো করোনা সংক্রমণের হার


প্রকাশিত:
১৪ জুন ২০২২ ২৩:৩৭

আপডেট:
২৬ জুন ২০২২ ০৭:১২

ফাইল ছবি

দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত মাসে সংক্রমণের হার এক শতাংশের নিচে থাকলেও এখন তা তিন শতাংশের ওপরে উঠে এসেছে। সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি এভাবে বাড়লে হাসপাতালে জায়গা হবে না বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার সংক্রমণের হার গত মাসেও যেখানে এক শতাংশের নিচে ছিল, সেটি বর্তমানে দুই শতাংশে উঠে গেছে। সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, আবারও হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয় আসবে, জায়গা হবে না।’

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর ভাইরাসটি বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা ধরার বিষয়টি জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এরপর থেকে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার।

কিন্তু তারপরে ভাইরাসটি তাণ্ডব চালায় বাংলাদেশে। ইতোমধ্যে চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি প্রাণ কেড়েছে বাংলাদেশের ২৯ হাজার ১৩১ জনের।

দীর্ঘ সময় তাণ্ডব চালানো ভাইরাসটির প্রকোপ কয়েক দুই মাস আগে অনেকটা কমে আসে। গত মাসে শনাক্তের হার এক শতাংশের নিচে নেমে আসে।

বাংলাদেশে সংক্রমণ নিম্নমুখী হলেও পার্শ্ববর্তী দেশসহ এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।

পরামর্শক কমিটি দেশের সব বন্দরের প্রবেশ পথে স্ক্রিনিং জোরদার, শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর সুপারিশ করে কমিটি।

করোনার নিম্নমুখীতার মধ্যেই কয়েকদিন ধরে আবারও প্রকোপ বেড়েছে ভাইরাসটির।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬২ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। শঙ্কার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কথাতেও।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআরবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার সংক্রমণের হার গত মাসেও যেখানে এক শতাংশের নিচে ছিল, সেটি বর্তমানে দুই শতাংশে উঠে গেছে। সংক্রমণ যদি এভাবে বাড়তে থাকে, আবারও হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয় আসবে, জায়গা হবে না।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু দেশে এখন আবার করোনা বাড়ছে। গত একমাস দেশে সংক্রমণের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, এখন সেটি ২ শতাংশে উঠেছে। প্রতিদিন যেখানে দৈনিক ৩০-৩৫ জন রোগী শনাক্ত হচ্ছিল, এখন সেটি বেড়ে ১৩০-১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। আশঙ্কা করছি, যদি এ মুহূর্তে পরীক্ষা বাড়ানো হয়, তাহলে সংক্রমণের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে করোনা বেড়েছে, সেখান থেকে সংক্রমিত হয়ে রোগীরা বাংলাদেশেও ঢুকে পড়ছে। আগে আর্টিফিশিয়াল টেস্টের যে বিষয় ছিল, দেশে আসার ৪৮ ঘণ্টা আগে টেস্ট করে সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হবে। সেটি তো আমরা এখন করছি না। শুধু ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট দেখছি। যদি অন্যান্য দেশে খুব বেশি সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং দেশেও বাড়ে, তাহলে আবার আর্টিফিশিয়াল টেস্ট শুরু করব।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘আমাদের জন্য একটি ভালো খবর হলো- প্রায় সব হাসপাতালে এখন ২০ জনের বেশি রোগী নেই। কিন্তু আমরা যেভাবে অসতর্ক হয়ে চলাচল করছি, হাসপাতালে রোগী বাড়তেও সময় লাগবে না। আমাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। আপনারা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব কাজকর্ম করবেন, এটি আমরা আশা করব।’

যারা এখনো বুস্টার ডোজ নেননি তাদের দ্রুত বুস্টার ডোজ নেওয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

 

আরপি/এসআর-০২



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top