রাজশাহী শুক্রবার, ১৪ই জুন ২০২৪, ১লা আষাঢ় ১৪৩১


সাইলো সড়কের বেহাল অবস্থা, নেই সংস্কারের উদ্যোগ


প্রকাশিত:
২৪ মার্চ ২০২৩ ২১:২২

আপডেট:
১৪ জুন ২০২৪ ১৭:৪২

ছবি: রাজশাহী পোস্ট

বগুড়া খাদ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার সাইলো সড়ক। সাড়ে তিন কিলোমিটার এই সড়কটি দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও যেন দেখার কেউই নেই। সড়কের অধিকাংশ জায়গায় ইট খোয়া উঠে গিয়ে খানা খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল।

২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন আরও একটি রাইস সাইলো উদ্বোধন করতে আসা উপলক্ষ্যে সড়কটি আংশিক সংস্কার করা হয়। এরপর প্রায় সাত বছর অতিবাহিত হলেও সড়কটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গ্রহন করে নি খাদ্য বিভাগ। 

সাইলো সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি সাইলো (একটি গম ও একটি চাল) ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সার গুদামে মালামাল পরিবহনের জন্য নিয়মিত ট্রাক চলাচল করে। এছাড়া  সান্তাহার পৌর শহর, সান্তাহার ইউনিয়ন ও আদমদীঘি সদর ইউনিয়নসহ প্রায় ২০ টি গ্রামের মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করে এই সড়ক দিয়েই। বর্তমানে সাইলো থেকে শুরু করে সান্তাহার শহরের খাঁড়ির ব্রীজ পর্যন্ত সড়কের বেশির ভাগ স্থানে পাথর ইট ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সান্তাহার পৌর শহরের ট্রাক মালিক আব্দুর সবুর বলেন, সাইলো ও সার গুদামে মালামাল পরিবহনের জন্য ওই সড়ক দিয়ে অসংখ্য ট্রাক চলাচল করে। বর্তমানে সাইলো সড়কের যে বেহাল অবস্থা তাতে করে কোনো ট্রাক মালিক ওই সড়কে ট্রাক দিতে চায় না। চালকরাও ওই সড়ক দিয়ে ট্রাক চালাতে অনিহা প্রকাশ করেন।

সান্তাহার শহরের ট্রাক চালক সুমন হোসেন বলেন, সাইলো সড়কের চার ভাগের তিন ভাগ সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। মালামাল বোঝাই ট্রাক ওই সড়ক দিয়ে নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হয় কিন্তু বেশির ভাগ সময় সরকারি মালামাল বহন করার কারনে কষ্ট হলেও ওই সড়কে ট্রাক নিয়ে যেতে আমরা বাধ্য হই।

সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই সিদ্দিক বলেন, সড়কটি সাইলোর হলেও প্রায় ২০ টি গ্রামের মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু এই সকল গ্রামের মানুষের সান্তাহার পৌর শহরে যাতায়াতের জন্য বিকল্প কোন সড়ক নেই। তাইতো শত কষ্ট হলেও কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই বিভিন্ন যানবাহনে স্কুল, কলেজ, রেণওয়ে জংশন ষ্টেশন ও হাট-বাজারে যাতায়াত করে।

সান্তাহার নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক গোলাম আম্বিয়া লুলু বলেন, তিনটি গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা থাকা সর্ত্তেও কেন এই সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে না তা কারোও বোধগম্য হচ্ছে না। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য খাদ্য বিভাগের প্রতি আহবান জানান।

এ বিষয়ে সাইলোর অধিরক্ষক শাহারিয়ার সালাউদ্দীন বলেন, অচিরেই কর্তৃপক্ষ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। সাইলো সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি সংস্লিষ্ট কর্তৃক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

 

আরপি/এসআর-০৮



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top