রাজশাহী শনিবার, ২রা মার্চ ২০২৪, ২০শে ফাল্গুন ১৪৩০


রাসিক নির্বাচন: আ.লীগে দ্বন্দ্ব সৃষ্টিতে তৎপর ‘অচেনা’ হাতপাখা!


প্রকাশিত:
১৬ মে ২০২৩ ১৬:৩৫

আপডেট:
২ মার্চ ২০২৪ ১৪:০৫

ফাইল ছবি

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এখনও মাস খানেক বাকি । নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী চলছে মেয়র ও কাউন্সিলরদের মনোনয়ন সংগ্রহ। তবে অন্য বারের ন্যায় নগরীতে ভোটের আমেজ এখনও না জমলেও চলছে রাজনৈতিক নানা বিশ্লেষণ। কোন প্রার্থীর চেয়ে কে এগিয়ে তা নিয়েও সরগরম চায়ের দোকান। মেয়র পদে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বর্তমান মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনই থেকে যাচ্ছেন নগরপিতা, তা অনেকটাই নিশ্চিত।

এদিকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে’ রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ কোনো স্থানীয় নির্বাচনেই যাচ্ছে না বিএনপি। যদিও শুরু থেকেই নির্বাচনের মাঠে সরব জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকা না থাকা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক।

তবে রাজশাহীর রাজনীতির মাঠে নতুন আলোচনার বিষয় হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামের ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন দলের স্থানীয় নেতারা। আর এতেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক, নির্বাচন নয় তাদের অরাজনৈতিক আচরণেই উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ।

অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের মাঠে লড়াইয়ের সামর্থ্য না থাকলেও নির্বাচন ও সরকার দলকে বেকায়দায় ফেলতে কৌশলী চরমোনাই পীরের হাতে গড়া সংগঠনটি। দলটি রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলেও নগরবাসীর অনেকেই চেনেন না ‘হাতপাখা’ প্রতীককে। এছাড়াও রাজশাহীতে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে নিয়েও চলছে নানা বিতর্ক। রাজনীতিবিদদের অনেকেই চেনেন না মেয়র প্রার্থীকেও।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন রাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে দলটি। এতে সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সংগঠনটির মহানগর শাখা সভাপতি তারিফ উদ্দিন। আর মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকী। সম্প্রতি এ দুই নেতা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন।

রাসিক নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া প্রসঙ্গে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকারে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যেও কিছু ভালো লোক আছে, বিএনপির মধ্যেও কিছু ভালো লোক আছে। বিভিন্ন কারণে হয়তো বা কেউ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত আছে, কেউ বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত আছে। কিন্তু মানবসৃষ্ট কোনো রাজনীতি তারা চায় না, তারা আদর্শিক একটা রাজনীতি চায়। যার জন্য তারা গুণগত পরিবর্তন চায়, এই পরিবর্তন চাওয়ার কারণে তারা পরোক্ষভাবে আমাদেরকেই (হাতপাখা) চায়।’

গত নির্বাচনেও আমরা দেখেছি, অনেকে হয়তো নৌকার ক্যাম্পেইন করেছে অথবা বিএনপি নিয়ে ক্যাম্পেইন করেছে; কিন্তু ভোট আমাদেরকে দিয়েছে। যারা কোনো কারণে আওয়ামী লীগ করছে বা কোনো কারণে বিএনপি করছে, স্বার্থের কারণেও করতে পারে, আবার চাকরি বাঁচানোর জন্যও করতে পারে- কিন্তু এ শ্রেণির অনেক লোকই এবার ভোট দেবে বা সমর্থন দেবে বলেও আশা তাদের। তবে বাম দলের সমর্থকদের ভোট চান কিনা- এমন প্রশ্নে হা-না জবাব না দিয়েই এড়িয়ে যান তারা।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে নিয়ে এমন উদ্ভট সব মন্তব্য নিয়েই তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে নিজেদের ভোটব্যাংক বাড়ানোর কৌশল হিসেবেও এসব বলে থাকতে পারে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ইতোমধ্যে সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়ের এসব বক্তব্য বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যুবলীগ।

ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজপথে শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে যুবলীগ। রাজশাহী মহানগর যুবলীগের দফতর সম্পাদক মাহমুদ হাসান খান চৌধুরী ইতু দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তারা এসব বলেছে। তবে এসব ষড়যন্ত্র রাজশাহীতে টিকবে না, তা রুখে দিতে যুবলীগই যথেষ্ট। জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না, তারা নৌকাতেই ভোট দেবে।’

যুবলীগের নগর সভাপতি রমজান আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা কখনোই হাতপাখায় ভোট দেবে না। তারা অবাস্তব কথা বলেছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সংগঠনটির নেতারা। বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যুবলীগ।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগের কোনো অংশই এখানে (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) নেই। আমরা পুরো মহানগর আওয়ামী লীগ একসাথেই কাজ করছি। তবে দু-একজন আফসোস করে নাও আসতে পারে, সেটা আলাদা কথা। আর হাতপাখাকে আমরা কোনো প্রার্থীই মনে করি না।’

এ ব্যাপারে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ‘বিএনপির লোকজন কেন হাতপাখায় ভোট দেবে? আমরা তো নির্বাচনই বর্জন করেছি। আমি রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দা, ওই দলের কে প্রার্থী হয়েছে? তাদের প্রার্থীকেই আমি চিনি না।’

হাতপাখার প্রার্থীকে ভোট প্রদানের প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘তাদের ভোট দেওয়ার প্রশ্ন-ই আসে না। বিএনপির কোনো ভোটার ভোট কেন্দ্রেই যাবে না। অতীতে যেমন বিভিন্ন জীবজন্তু সেন্টারে থাকতো, নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকরা, পুলিশ ঘুমিয়ে থাকতো তাই হবে।’

 

 

 

আরপি/এসআর-০৬



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top