রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১


ভারত-বাংলাদেশের লড়াইয়ের তুলনা-প্রতিতুলনা


প্রকাশিত:
২২ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:০৯

আপডেট:
২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:২২

ছবি: হাসনাত কাইয়ূম

ভারতের লড়াইটা ভারতের মতো। ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলন থেকে আমাদের শিখবার আছে, উৎসাহিত হওয়ার আছে কিন্তু হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নাই। অনেকের আলাপ শুনলে মনে হয় বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিস্থিতি ভারতের তুলনায় অনেক দুর্বল এবং নিম্নমাত্রার। বিষয়টা পুরো উল্টো।

বাংলাদেশে কখনোই ভারতের মতো ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশে যাদেরকে ধর্মীয় রাজনৈতিক দল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়, সে জামায়াতে ইসলামী কিংবা হেফাজত ইসলাম বা অপরাপর যেসব রাজনৈতিক দল আছে, তাদের কারোপক্ষে বাংলাদেশে দাঁড়ায়ে প্রকাশ্যে এ আলাপটা করাই সম্ভব না যে, তারা ক্ষমতায় গেলে অমুখ মন্দিরটা ভেঙে তমুখ মসজিদটা গড়বে।

ভারতের একটি দল শুধু এটা বলেই নাই, এটাকে পুঁজি করে ভিন্ন ধর্মের লোকদের কচুকাটা করে, কচুকাটা মডেলকে জাতীয় পর্যায়ে চর্চা করে কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত গঠন করেছে, সুপ্রীম কোর্ট থেকে রায় নিয়ে সে মসজিদের জাযগায় মন্দির বানানোর আইনী অধিকার পর্যন্ত লাভ করেছে।

নিজেদের হেয় করবেন না। বাংলাদেশ ভারতের মতো না। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জাত-পাতের লড়াই শেষ করেছে ৭-৮শ বছর আগে। বাংলাদেশ ভাষার লড়াই থেকে সার্বভৌমত্বের লড়াই জনযুদ্ধের মাধ্যমে শেষ করেছে, তাও ৫০ বছর আগে। ভারতকে আজ যে-লড়াই করতে হচ্ছে বাংলাদেশের সামনে সে-লড়াই আসতেই পারবে না। ব্রিটিশ কলোনীয়াল শাসন কাঠামোর যে যাঁতাকলে ভারত আজ হাঁসফাঁস করছে তার কারণ আজো তাদের সামনে দৃশ্যমান নয়।

একমাত্র কানাইয়ার আজাদী’র শ্লোগান ছাড়া ভারতের বন্দীত্বের প্রকৃত কারণ এবং তার থেকে মুক্তির পথের ইশারার আওয়াজ আজো ওঠে নাই।

বাংলাদেশ সে পথ পেরিয়ে এসেছে প্রায় ৫০ বছর আগে। বাংলাদেশ বিগত ৫০ বছরে, বারো রকমের শাসন ব্যবস্থা পরীক্ষা করে, ব্রিটিশ কলোনীয়াল কাঠামোর শাসনতন্ত্রের বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য প্রস্তুতিমূলক ছটফটানি শুরু করেছে। ব্রিটিশদের কলোনী ছিল, ছদ্ম গণতন্ত্রের বিকৃত জালে বন্দী কমনওয়েলথভুক্ত এমন দেশগুলির মধ্যে মুক্তির লড়াইয়ে বাংলাদেশেই সবচেয়ে এগিয়ে, এরাই এই জাল ছিন্ন করার পথ দেখাবে।

পৃথিবীর মানব মুক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্র একবার ছিল ফ্রান্সে, একবার রাশিয়ায়, সারাদুনিয়ার না হলেও, আগামীতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির মুক্তির ভরকেন্দ্র হবে বাংলাদেশ। সেদিন বেশী দূরে নয়।

 

লেখক: হাসনাত কাইয়ূম

Hasnat Quaiyum


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top