রাজশাহী মঙ্গলবার, ২৯শে নভেম্বর ২০২২, ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯


বহুমাত্রিক তাজউদ্দীন আহমদ (প্রথম পর্ব)


প্রকাশিত:
২ জানুয়ারী ২০২২ ১২:৪৫

আপডেট:
২৯ নভেম্বর ২০২২ ০৬:৫৮

ফাইল ছবি

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি আর্মিরা খুব ক্ষুব্ধ ছিল যুদ্ধদিনের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ওপর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের গ্রামের বাড়িটি ছিল পাকিস্তানি আর্মির ক্যাম্প। গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামের এই বাড়ি ছেড়ে যাবার সময় পাকিস্তানি আর্মিরা তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো গ্রামের সেই পোড়া বাড়িতে গিয়েছেন তিনি। তাঁকে দেখতে এসেছেন গ্রামের অনেক মানুষ। এদের মধ্যে কয়েকজন তাঁকে বললেন, আর চিন্তা কি, তাজউদ্দীন ভাইসাবের পোড়া ভিটায় নতুন বাড়ি উঠবে।

এই কথার উত্তরে তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, যতদিন পর্যন্ত এই বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না, ততদিন এই ভিটায় বাড়ি উঠবে না। তিনি আরও বললেন, মনে রাখবেন, আমি শুধু এই এলাকার মন্ত্রী না। আমি সমস্ত বাংলাদেশের। এখন আপনাদের দায়িত্ব আগের চাইতে অনেক বেশি। কারণ সমস্ত দেশের মানুষ আপনাদের কাপাসিয়ার এই মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকবে। আমি স্বার্থপরের মত আমার এলাকার উন্নয়নের কাজে হাত দিতে পারি না। আমাকে সমস্ত দেশে সবকিছু সমান ভাগ করে দিতে হবে।

এই কথা বলার পরে, তিনি সহজ ভাষায় উদাহরণ টেনে বললেন, বাড়িতে যখন অতিথি-মেহমান আসে তখন আমরা কি করি? তাকে ভালো করে আদর যত্ন করি, তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করি। তাকে সবচাইতে ভালো জিনিসটা খেতে দেই। তারপর যা থাকে নিজেরা ভাগ করে খাই। আপনারাও সমস্ত বাংলাদেশকে তেমনি ভাবে দেখেন। আসুন আগে আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ি, তখন এই এলাকা আর এমনিতেই পিছিয়ে থাকবে না।

এই ঘটনার বয়ান আছে সিমিন হোসেন রিমি রচিত প্রতিভাস কর্তৃক প্রকাশিত ‘আমার ছোটবেলা ১৯৭১ এবং বাবা তাজউদ্দীন আহমদ’ নামের বইয়ে।

লেখক: শুভ কিবরিয়া।
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

 

 

 

আরপি/এসআর-০৫



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top