লালপুরে লাখ টাকার 'নির্বাচনী প্রতীক' বিক্রি

ছুটির দিনের নীরব-নিস্তব্ধতার বদলে সকাল থেকেই সরগরম ছিল নাটোরের লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ নিতে আসা প্রার্থী আর কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে মুখর ছিল পরিবেশ। আর এই উৎসবে জমে উঠেছিল ‘নির্বাচনী প্রতীক বিক্রির ব্যতিক্রমী বাজার।
মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এখানে নির্বাচনী মার্কা-সংবলিত নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকেরা এসব মার্কা আঁকা নির্বাচনী পণ্য কিনতে দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চারটি দোকানে কেনাবেচা চলে। এতে প্রায় লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন তারা।
পণ্যের মধ্যে ছিল প্রার্থীর পছন্দের প্রতীক-সংবলিত কাগজে ছাপানো লেমিনেটিং করা রঙিন কার্ড, রঙিন ফিতা লাগানো গলায় ঝোলানোর জন্য ব্যাজ, বুকে লাগানোর জন্য ব্যাজ।
খুলনা ফুলপুর থেকে ‘নির্বাচনী পণ্য’ বিক্রি করতে লালপুরে এসেছিল কলেজছাত্র জুয়েল। পড়াশোনার ফাঁকে বাড়তি উপার্জনের জন্যই নির্বাচনী পণ্যের মৌসুমি এই ব্যবসা করছেন তিনি।
ইউপি নির্বাচন শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় পণ্যের পসরা নিয়ে ছুটছেন। জুয়েল জানান, ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলা ঘুরে নির্বাচনী প্রতীকের এসব পণ্য বিক্রি করছেন।
প্রতীক বরাদ্দের দিনেই তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে। এক-একটি উপজেলায় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার নির্বাচনী পণ্য বিক্রি হয়। তবে এখানে দোকান কম থাকায় বিক্রি আরো বেশি হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরেক বিক্রেতা আব্দুর রহমান। নির্বাচনী পণ্য বিক্রি করছেন শেখ এন্ড সন্স নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ দেওয়া নানা প্রতীকের এসব কার্ড-ব্যাজ ছাপিয়ে বাজারে ছেড়েছে প্রেস ও স্টেশনের পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। প্রতীক বরাদ্দের দিনে প্রার্থী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন প্রতীক পেয়ে উত্তেজনা থাকে। খুশি হয়েই তাঁরা পছন্দের প্রতীকের নানা পণ্য কেনেন। আর এই আয় থেকেই চলে তার সংসার।
এবিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহাব বিন হাসিব বলেন, এই সব ব্যাজ ব্যবহারে সমস্যা নাই। তবে নির্বাচনে রঙিন পোস্টার-লিফলেট জাতীয় যেকোনো কিছুর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে। এমন বিষয় নজরে এলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরপি/এমএএইচ-১৬
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: