রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ই ফাল্গুন ১৪২৭


মাছ চাষে ভাগ্য ফিরেছে রায়হানের


প্রকাশিত:
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৬:০৬

আপডেট:
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৬:০২

ছবি প্রতিনিধি

কৃষিতে ডিপ্লোমা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ১ বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করে ভাগ্য ফিরেছে আব্দুল মোত্তালেব রায়হানের। তখন থেকে তার আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা, সততার উপর ভর করে তিনি এখন নাটোরের লালপুরে মৎস্য চাষীদের আইডল।

জানা গেছে, মাছ চাষ করে ভাগ্য ফিরেছে রায়হান। ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ১০ বছরে ধীরে ধীরে প্রকল্পের পরিধি বেড়ে এখন তিনি মাছ চাষ করেন ৫.৫ হেক্টর জমির ৬ পুকুরে। এছাড়া শেয়ারে রয়েছেন আরো ৪টি পুকুরে। এতে রায়হান শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, তার খামারে ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করেছেন। শুধু তা-ই নয়, তাকে অনুসরণ করে এলাকার বেকার যুবকরা আজ নিজ পায়ে দাঁড়াতে স্বপ্ন দেখছে ও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। পেয়েছেন লালপুর উপজেলার সেরা মৎস চাষীদের পুরস্কারও। সফল মৎস্য চাষী রায়হান উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে।

আব্দুল মোত্তালেব রায়হান বলেন, সালে কৃষি ডিপ্লোমা শেষ করে চাকুরিতে যোগ না দিয়ে আমি মাছ চাষে আগ্রহী হই। এরপর ছোট একটি পুকুরে ৮০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে মাছ চাষ শুরু করি। ২০১৫ সাল থেকে মাছ বিক্রি করে মোটামুটি ৫লক্ষ টাকা লাভ করি। এরপর যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষের পরিধি বাড়াতে থাকি। বর্তমানে ৫.৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে আমার ৬টি নিজস্ব মৎস্য পুকুর রয়েছে ও অংশীদারত্বে রয়েছে আরও ৪টি পুকুর। এসব পুকুরে রুই, কাতাল, মৃগেল, পাঙ্গাস তেলাপিয়া, চিংড়ি চাষ করছি। বর্তমানে আমার মৎস পুকুর দেখাশোনা করার জন্য ১৫-২০ জন কর্মচারী রয়েছে। এছাড়া গত কয়েক বছরে প্রায় অর্ধশত বেকার যুবককে মাছ চাষে উদ্বুর্ধ করেছি।

রায়হান বলেন, এবছর ৭০ লক্ষ টাকার খরচ করে মাছ চাষ করে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেছেন তিনি। যা বিগত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এবং এসব মাছের পোনা তিনি নিজস্ব ও স্থানীয় ভাবেই সংগ্রহ করেছেন বলে জানান।

এছাড়া মাছ চাষের লাভের টাকা বিনিয়োগ করে পুকুরের পাশাপাশি গবাদিপশু, হাস, মুরগী, পশুর বর্জ্য দিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট, সবজিবাগান সহ সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এতে আরো ১৫-২০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানান এই চাষি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, রায়হান একজন সফল মৎস্যচাষী। অন্যান্য মৎস্য চাষীদের মধ্যে তিনি ব্যতিক্রম। মাছচাষে সে অনেক দক্ষ। মাছের গুনাগুন বুঝে সে খাদ্য প্রয়োগ করে। এতে করে সে অন্যদের চেয়ে বেশি মাছ উৎপাদন করতে পারে। আর এ বিষয়ে আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছি।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ উমিরুল ইসলাম বলেন, এলাকার বেকার যুবকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে মাছ ও হাস, মুরগী চাষে উদ্বুদ্ধ করাসহ তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাদের একজন রায়হান। যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে সে সমন্বিত কৃষি খামার করে সফল হয়েছে। নিজে আত্মনির্ভরশীল হয়েছে। এখন তিনিও বেকার যুবাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।

আরপি/ এসআই-৪

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top