আপনার সঙ্গে লুতুপুতু আচরণ করি নাই এইটাই সমস্যা: পরিচালককে পরীমনি

ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমনিকে নিয়ে সম্প্রতি দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পরীমনিকে নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তাল তখন পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নায়িকেই দুষছেন চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। তিনি বলেন, ‘একটা মেয়ে হয়ে রাতে ক্লাবে গিয়ে নাচানাচি করে কেন, মদ খায় কেন?’ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা।
ঝন্টু মন্তব্যের পরই কোনো এক পরিচালককে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেছেন নায়িকা পরীমনি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আপনি পরিচালক হইয়া ৫ বছরে একটা সিনেমা বানান আর আমার এক বছরে পাঁচ সিনেমা রিলিজ হয়, আমার তো প্রচুর সমস্যা! আপনারে প্রযোজক বাগাইতে দিলাম না, ওরে সমস্যা!’ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় ‘স্মৃতি পরীমনি’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস তার ভেরিফায়েড পেজ থেকে শেয়ার করেন। সেখানে তিনি ‘সরি’ লিখে এ স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে আরও লেখা হয়, ‘কোনো রকম চামচামি না নিয়া আপনার মুখের ওপরে তিতা সত্য বইলা দেই, আমারই তো সমস্যা! আমি মাইয়া লোক কিন্তু লুতুপুতু মাইয়া টাইপ আচরণ করি নাই আপনার সঙ্গে, ঘইটা গেল সমস্যা!
চিকন সুরে ভাইয়া ভাইয়া করি নাই আপনারে, বিশাল সমস্যা! কাজের ফাঁকে আলগা রসের পিরিতের আলাপ করি নাই, ব্যস এই তো সমস্যা! কাজে মত প্রকাশের অধিকার দেখাইছি, তাতেই সমস্যা! ‘আপানার চোক্ষের সামনে আরো পাঁচ-দশজনের মতো না হারাইয়া যাইয়া দিন দিন ক্যারিযার বানাইতেছি, নাম কামাইতেছি..এইখানে হইয়া গেল সমস্যা!’
এই লড়াই শুধু যে আমার একার না এইটা বোঝার সুজ্ঞান উদয় হোক সবার।’ প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন নায়িকার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে তোলপাড় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে রাতে বনানীর নিজ বাসায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন পরী। সে রাতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেন চিত্রনায়িকা। জানান, ৮ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা চালান ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ।
পরদিন সকালে এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ (৬৫), তুহিন সিদ্দিকী অমি (৩৩), লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধাকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় এক হাজার পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার। ডিবির গুলশান জোনের উপপরিদর্শক মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন নাসির-অমিদের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার (২৩ জুন) আদালতে তোলা হয় নাসির-অমিকে।
পরীমনি এজাহারে উল্লেখ করেন, মদ পান করতে না চাইলে নাসিরউদ্দিন (১ নম্বর আসামি) জোর করে আমার মুখের মধ্যে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এতে আমার সামনের দাঁত ও ঠোঁটে আঘাত পাই। সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরীমনির এ ঘটনায় দেশজুড়েই চলছে আলোচনা। যদিও এ আলোচনায় নতুন উপাদান যোগ করেন ঢাকার অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল। তিনি বলেছেন, ওই রাতে ক্লাবে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন পরীমনি।
আরপি/ এসআই
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: