রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১


তোমাকে কোনদিন নূপুর পড়তে দেখলাম না যে?


প্রকাশিত:
২১ জানুয়ারী ২০২০ ০১:৫৬

আপডেট:
১৬ জুলাই ২০২৪ ১২:৫১

লেখক সামিউল মাহমুদ

প্রিয় অরিন,

বিকেলে কি বাসার বাইরে বের হওয়া হয় না? প্রকৃতির শান্ত বাতাসে ঘুরতে মন চায় না? স্নিগ্ধ মুগ্ধতার মাঝে তোমার চুল উড়া আমি চেয়ে দেখব গোধূলি অবধি।

কতকাল চেয়ে থাকার মন ইচ্ছে- তোমার টানাটানা চোখে, দীঘল কালো চুলের মেঘের ভেলায়।

তুমি কিভাবে অপলক চেয়ে থাক, খুব কান্না পেলে কিভাবে কাঁদ, আচ্ছা তুমি হাসলে কি বাঁকা দাঁতটা স্পষ্ট দেখা যায়?

আমার ভাবনার রেখাপথে তোমার পদচারণা সবচেয়ে বেশি। জান তোমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বুক ধড়ফড় করে খুব, কেমন জানি অস্বাভাবিক মনে হয় নিজেকে। আচ্ছা তোমারও কি এমন মনে হয়?

ঘুমাতে গেলেও মনে হয়- তুমি ঘুমিয়েছ কিনা? ঘুমে গিয়ে কি ভাব? চুল ফ্যানের বাতাসে তোমার মুখ ঢেকে দেয় কিনা এসব।

জান অরিন, খুব মায়া হয় যখন শুনি তুমি কোনদিন নাস্তা করে আসনি কিংবা বাড়ি থেকে রাগ করে এসেছ তখন। তোমার সরল চোখের মায়াবী কান্নার স্রোত আমার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে, আমি কষ্টের মায়াজালে নিজেকে দেখতে পায় স্পষ্ট। আচ্ছা তোমার জন্য আমার এত মায়া হয় কেন? কেন তোমাকে মন থেকে একটুও বিস্মৃত করতে পারি না?

সকালে ঘুম ভাঙলে ভাবি- তুমি কি কর? কিছু খেয়েছ কিনা? রাতে ভাল ঘুম হয়েছে কিনা? পড়ালেখাটাও ভাল মত কর কিনা? নাকি ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাক।

জান অরিন, গত কয়েক মাস যাবৎ খুব ভেবেছি- তোমার হাতে একটা ব্রেসলেট খুব মানাবে। আচ্ছা তোমাকে কোনদিন নূপুর পড়তে দেখলাম না যে? পায়েলে তো দেখতে ভালই লাগে। হিজাবটা এত সুন্দর করে পড় ঠিক যেন ইরানি পরী। শুনেছি নামাজও পড় নিয়মিত। আমিও এখন চেষ্টা করি রেগুলার নামাজ আদায় করতে।

বিকাল বেলায় চা খেতে খেতে ভাবি- তুমি নাস্তা করেছ কিনা? মাঝে মাঝে স্বপ্নে হারিয়ে যায়- দুজন একই বেঞ্চিতে বসে চা খাচ্ছি ; তুমি অপলক চেয়ে আছ আমার দিকে, আমি লাজুক ছেলেটির মত তোমার হাতের কাপটির দিকে। ঠিক তখন কানে বেজে ওঠে শিরোনামহীনের ক্যাফেটেরিয়া গানটি-
'এখানে তোমার ঠোঁট ভালবাসা,
আমি পুরো কবিতার মত চুপচাপ
এখানে তোমার চোখগুলি
আমি খুন হই প্রতিদিন।'

অরিন-

পাহাড় তলিয়ে যাবে,
নদী শুকিয়ে যাব,
তুমি আমাকে ভুলে যাবে,
কিন্তু আমি তোমাকে ভুলব না।
(The mountain can vanish,
The river can dry,
You can forget me,
But never can I.)
- Collected

প্রিয় অরিন, লক্ষ্ণী মেয়েটি- হাজারো রাতের পূর্ণিমা, হাজারো তারার ছুটোছুটি দেখব দুজনে, হাজারো ফুলের শিশির ছোঁব,গ্রামের মেঠোপথে হারিয়ে যাব অনায়াসে।

অরিন, অপলক চেয়ে থাকব তোমার মায়াবী চোখে, স্বপ্ন সাজাব। ভালো থেকো; ভালো থাকতে হয়, ভালো থাকার জন্য।

ইতি,
তোমার নেহাল

উৎসর্গঃ তোমাকে- না বলা গল্প।

লেখক: রাজশাহী কলেজ সাবেক শিক্ষার্থী

Shimul Mahmud 

 

আরপি/এমএইচ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top