আইনাল হকের কবিতা ‘অপেক্ষার প্রহর’

অপেক্ষারও তো একটা সীমা আছে, তাই না?
নাকি আমাকে অপেক্ষা করাতেই তোমার যত প্রচেষ্টা
অপেক্ষা করতে করতে আমার পায়ে শিকড় গজিয়েছে,
আর কি অপেক্ষার ধৈর্য্য থাকে, বল?
সেই শৈশব কাল থেকে শুনে আসছি
যে অপেক্ষা করতে জানে,সে আজ হোক কাল হোক
সফলকাম হবেই হবে................
কিন্তু আমার বাস্তবতার ক্ষেত্রে
সেই নীতিকথার গভীর অমিল।
হাজারও না পাওয়ার মাঝে সেই ধৈর্য্যের,
অপেক্ষার গল্পটি স্মরণ করে
নিজেকে অপেক্ষা করাতে শিখিয়েছি।
শৈশব পেরিয়ে কৈশরে,
স্বেচ্ছাচারিতা নয়, একটু স্বাধীনতা চেয়েছি..........
চেয়েছি ডানে-বামে, সামনে-পেছনে
অবলোকনের সামান্য অধিকার।
অভিভাবকরা বললেন; অপেক্ষা কর বাছা!
সে সময় এখনও আসেনি,,,,,
আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম।।
আস্তে আস্তে কৈশর ছেড়ে গেছে
অদূরে অপেক্ষমান যৌবন হাতছানি দিয়ে ডাকছে,
ভাবলাম; এইবার, এইবার বুঝি পাইলাম
নয়া দিগন্তে ডানা মেলার অধিকার...........
কিন্তু এ কী ! এবারেও সেই একই নীতিকথা,
বাছা; যে জন পেরেছে করতে নিয়ন্ত্রন
সদ্য জাগ্রত নব যৌবন, সেই জন
সেই জনই পেরেছে করতে সর্ব খ্যাতি অর্জন,
হবে তাড়া কেন? অপেক্ষা কর!
সেই অপেক্ষার নিচ্ছিদ্র প্রাচীর ছিদ্র করে
হৃদয়ের এই নিরস চরে হঠাৎ আগমন তোমার;
বুঝলাম, নিশ্চয় বিগত দিনের অপেক্ষার প্রতিদান পেলাম।
মহাখুশি হলাম,,,,,,,,,,,,,,,,,,,।
দিনে দিনে সমস্ত প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ছিন্ন করে
দু জন দু জনার সন্নিকটে আসতে থাকলাম।
অতি নিকটে এসেছি আমরা
তোমার নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যায়,
কী, পাওনা শব্দ আমার?
ক্রমেই শ্বাস-প্রশ্বাসের তাপ ছড়ানো বাতাসে
নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারানোর মুহূর্তে
সেই পুরনো নীতিকথা,,,,,,,,,
অপেক্ষা কর প্রিয়, আর কিছুদিন যাক।
কিন্তু, কিন্তু আর কত ! সফলতার স্বর্ণ শিখরে পৌছতে
আর কত অপেক্ষা করতে হবে,,,,,,,,,,,,,?
কবিতাটি লিখেছেন মোঃ আইনাল হক, সহকারী শিক্ষক, তেঁতুলিয়া ডি.বি উচ্চ বিদ্যালয়।
আরপি / এমবি-৫
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: