রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৫ই জুন ২০২১, ২রা আষাঢ় ১৪২৮


ফুলগুলো সুরভী ছড়াবেই

শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


প্রকাশিত:
১১ মে ২০২১ ১৭:২৭

আপডেট:
১১ মে ২০২১ ১৭:২৮

 

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বৌদলতে মূল ধারার সাংবাদিকতায় রাজশাহীর প্রথমসারির আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক সোনার দেশ পরিবারের একজন সদস্য হয়ে কাজ করার প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হচ্ছে। সাংবাদিকতার ভাষায় বললে এখনও পথচলার সূচনা লগ্নেই আছি। তবে এই সময়টাই যতটা শিখেছি, বাস্তবতা ও জীবন বোধকে উপলব্ধি করেছি।

সর্বোপরি নিজেকে আরো উন্নত ও দক্ষ করার প্রচেষ্টায় নিজেকে প্রেষিত করেছি জীবনের বাকি সময়টাই তার হয়তো কিছুই করতে পারিনি। অনেকের কাছেই শুনেছি সাংবাদিকতা পেশায় নাকি অনেক সুযোগ সুবিধা। তবে এসব সুযোগ সুবিধার প্রশ্ন ওঠার আগেই সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেয়ার অদৃশ্য প্রস্তাবণা হিন্দি সিরিয়াল সিআইডির বেশ কিছু এপিসোড ও টেলিভিশনের পর্দায় মানবিক রিপোর্টগুলো তৈরি করে দিয়েছিল। আর বর্তমানে তো অন্যরকম নেশায় পরিনত হয়েছে।

এ অদৃশ্য কারণেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় শিক্ষা জীবনের কিছু মূল্যবান সময়ে কিছু সুদীপ্ত স্বপ্নের বীজগুলো যখন অঙ্কুরিত হয়নি তখনও এ পেশাকে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। পারিপার্শ্বিক নানা অসংগতিগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার মানষে একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে এ পেশার গুরুত্বও উপলব্ধি করেছি। অতএব চ্যালেঞ্জিং এ পেশায় টিকে থাকতে মনোনিবেশ করেছি।

যদিও বর্তমান সাংবাদিকতায় কিছু হলুদের আগ্রাসন আর পর্দার ওপারের চিত্রগুলো প্রায়শই নিরুৎসাহিত করে। তবে বিশ্বাস করি এ পেশা এখনও অনেক মহান। আর সংকটগুলো অচিরেই দূরীভূত হবে। আর এ মহান পেশায় যারা আসতে চাই তাদের যেমন পারিবারিক চাপ থাকে তেমনি পারিপার্শ্বিক অন্যান্য অনেক বিষয় থাকে যেগুলো সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিতে এক প্রকার দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।

আমার সাংবাদিকতায় পথচলা শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের সহশিক্ষা সংগঠন প্রিয় রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি (আরসিআরইউ) এর হাত ধরে। পরবর্তীতে কিছু মানুষের ভালোবাসার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। যাইহোক সেই জায়গা থেকে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় পিছুটানের সেই উপাদানগুলো আরো বেশি মনে হয়েছে।

তবে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় কিছু মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণবন্তভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে রাজশাহীর মূল ধারার সাংবাদিকতার ইতিবাচক কিছু মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গিও প্রশংসার দাবিদার। তবে ক্যাম্পাসের মধ্যে যে শিক্ষাগুরু ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় এ পথের পথম ধাপের সূচনা হয়েছে তার কথা না বললেই নয়।

তিনি রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। যে সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের উপর শিক্ষকদের বাঁকা চোখের খবর পড়েছি তখন তার কথার চেয়ে তার কর্মচঞ্চলতা খুব বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।

যদিও কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তিটা কম মনে হয়েছে। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দাঁড়িয়ে সেই প্রাপ্তিটাও তৃপ্ত করেছে। সুতরাং তার প্রতি আমি ও আমরা চির কৃতজ্ঞ। আর শিক্ষক হিসেবে তাকে অনেকটায় কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে৷

তিনি খুব ভালো বা শতভাগ সফল অধ্যক্ষ এটা বলবো না। কেননা কারো অতিরঞ্জিত অবাস্তব প্রশংসা করা পছন্দ করি না। খুব বেশি অতি উৎসাহী কার্যক্রমকেও না। তবে কিছু ক্ষেত্রে উৎসাহিত হতে না পারা আর ভালোবাসার মানুষগুলোকে ভালোবাসি বলতে না পারার দূর্বলতার কারণে স্যারের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভালো দুইটি ছবি খুঁজে না পাওয়া আমি।

তবে এটা বলতে চাই ক্যাম্পাসের এই ফুলবাগানের ফুলগুলো একদিন সুরভী ছড়াবেই। যেই ফুলের ঘ্রাণ ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সুরভী ছড়াচ্ছে।

সুতরাং বিদ্যমান ফুলগুলোর গুনগত মান আরো উন্নতকরণে ক্যাম্পাসের আগত দায়িত্বশীলদের গুণগত ও কর্মচঞ্চল ভূমিকা যেমন কামনা থাকবে তেমনি তাদের দায়বদ্ধতা আছে বলেও মনে করি। আর করোনার সংকটকালীন সময়ে এই দায়বন্ধতা আরো বেশ বলেই মনে করি। যদিও কলেজের নগণ্য কিছু শিক্ষক সাংবাদিকদের পছন্দ করেন না। তবে তার জন্য তার দৃষ্টিভাঙ্গি দায়ী।  

আর প্রক্তন অধ্যক্ষ এই স্বপ্নচারী মানুষটি সম্পর্কে এটুকু না বললেই নয় যে, তিনি আমার দেখা একজন কর্মচঞ্চল মানুষ, সফল অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান। তার পদচারণা আজও অনুপ্রাণিত করে। অফুরান ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা এ গুনিমানুষটিসহ যারা প্রেরণা জুগিয়েছেন ও জাগাচ্ছেন।#

লেখক: অর্থ সম্পাদক, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টাস ইউনিটি। 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top