রাজশাহী শনিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৯ই আশ্বিন ১৪৩০


প্রতিটি ইভিএম মেরামতে লক্ষাধিক টাকা চায় ইসি


প্রকাশিত:
২২ মার্চ ২০২৩ ০৩:১৩

আপডেট:
২২ মার্চ ২০২৩ ০৩:২৯

ফাইল ছবি

আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের হাতে থাকা এক লাখ ১০ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সরকারের কাছে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে ইসির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২১ মার্চ) বিকেলে আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চাহিদার হিসেবে একেকটি ইভিএম মেশিন মেরামত করতে এক লাখ ১৪ হাজার ৫৪৫ টাকা লাগবে বলে জানিয়েছে ইসি। অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদে ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হাতে থাকা মেশিনগুলো মেরামতের জন্য ১২৬০ কোটি টাকা প্রয়োজন। বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।’

চিঠি পাঠানোর একদিন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, তাদের হাতে থাকা দেড় লাখ মেশিনের মধ্যে ৪০ হাজার মেরামত অনুপযোগী। অবশিষ্ট এক লাখ ১০ হাজার মেশিন মেরামত করতে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা প্রয়োজন।

এসময় তিনি ইভিএম মেরামতের জন্য অর্থ নিয়ে নিশ্চয়তা না পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কিনেছিল তৎকালীন কে এম নূরুল হুদা কমিশন। সে সময় জাতীয় নির্বাচনে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করেছিল তারা। বাকিগুলো বিভিন্ন আসনের উপ-নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়। কিছু মেশিন বিএমটিএফ-এর ওয়্যারহাউজে সংরিক্ষত আছে।

সবমিলিয়ে এক লাখ ১০ হাজার মেশিন ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে হবে। সেগুলোই এখন মেরামত করার ওপর নির্ভর করবে সংসদ নির্বাচনে ব্যবহারযোগ্য মেশিনের সংখ্যা। আর এটি নির্ভর করবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অর্থ বরাদ্দের ওপর।

জানা গেছে, ইভিএমের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে গত বুধবার নির্বাচন কমিশন বৈঠক করে। সেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতগুলো আসনে ইভিএম ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে জানানো হয়, ইভিএমগুলা সচল করতে বাংলাদশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) এক হাজার ২৫৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।

ইসি মনে করে, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কমিশনের হাতে সময় খুবই কম। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড়ের পরও ইভিএমগুলা সচল করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে। এ পরিস্থিতিতে আবারও চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ করে আগামী নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা হাতে নেয়। এজন্য প্রায় চার লাখ মেশিনের প্রয়োজন পড়ে। এতে আরও দুই লাখ মেশিন ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন আট হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নতুন একটি প্রস্তাব দেয় সরকারের কাছে।

কিন্তু বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে প্রকল্প প্রস্তাবটি ‘আপাতত স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্ত জানায় পরিকল্পনা কমিশন। এই অবস্থায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠিক কতটি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, তা এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

ইসি আনিছুর রহমান সোমবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ যদি টাকা না পাওয়া যায় তাতেও আমাদের সিদ্ধান্তে আসতে হবে কী করবো। ব্যালটে কতটা করবো বা ইভিএমে আদৌ করবো কি-না। কাজেই সবটাই নির্ভর করবে অর্থ প্রাপ্তির ওপর।

 

 

 

আরপি/এসআর-১২


বিষয়: ইভিএম ইসি


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top