রাজশাহী শুক্রবার, ১৪ই জুন ২০২৪, ১লা আষাঢ় ১৪৩১


ন্যাটোর হাত ধরে সম্পর্কের বরফ গলাতে চায় বাইডেন


প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৬:৩৩

আপডেট:
১৪ জুন ২০২৪ ১৯:২৭

ছবি: সংগৃহীত

সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলনের মাধ্যমে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আবারও নতুন করে শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যে দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ট্রাম্পের অধীনে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ক্ষয়ে যাওয়া সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে চায় বাইডেন প্রশাসন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো কোনো সম্মেলনে অংশ নেবেন। একইসঙ্গে সম্মেলনের শেষ দিনে মিত্রদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর জেমস গোলজাইয়ার আলজাজিরাকে বলেন, ‘ইউরোপের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জো বাইডেনের মধ্যে বিস্তার ফারাক রয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গিই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমাদের এখন এমন একজন প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, যিনি ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিতে চান।’

তিনি বলেন, ‘জো বাইডেন (প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই) এই বিষয়টি নিয়ে কয়েক দশক ধরে কাজ করছেন। এটা ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে স্বস্তির।

ট্রাম্পের অধীনে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল বলে শোনা যায়। এমনকি প্রতিরক্ষাখাতে ন্যাটো দেশগুলো খুব বেশি ব্যয় করছে না বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এছাড়া একতরফা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সেগুলোতে একমত পোষণ করতেও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর জোরাজুরি করতেন সাবেক এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

গোলজাইয়ার বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড় ইউরোপবিদ্বেষী প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তার দৃষ্টিতে ইউরোপীয় মিত্ররা ছিল ক্ষতিকর।’

বুধবার থেকে শুরু হওয়া ন্যাটোর এই মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাশিয়াকে মোকাবিলা ন্যাটোর প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে এজেন্ডায় থাকলেও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েই মূলত সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে।

বিশেষ করে বেইজিং গ্রিক বন্দর পিরেইয়াস কিনে নেওয়ায় ন্যাটো দারূণভাবে উদ্বিগ্ন। এছাড়া বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারি পারিস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাও সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়েও সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে।

এদিকে সোমবার ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবান বিদ্রোহীদের স্বাক্ষরিত ২০২০ সালের শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে (তালেবান বিদ্রোহীদের) আরও অনেক কিছুই করতে হবে। আফগানিস্তানে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্রাসেলসে সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের একদিন আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, এতে করে আফগানিস্তান আবারও সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হবে। তার দাবি, ‘একটা শর্তের অধীনে আমরা আফগানিস্তানে আছি। প্রয়োজন ছাড়া কেউই সেখানে থাকতে চায় না, আর তাই সঠিক সময়েই আমরা আফগানিস্তান ত্যাগ করবো।

আরপি / এমবি-১



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top