রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১


২০২০ সালের বই মুদ্রণে

এবারও আপত্তিকর বিষয়গুলো বহাল থাকছে নতুন বইয়ে


প্রকাশিত:
১৪ অক্টোবর ২০১৯ ০৮:৫২

আপডেট:
৩ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৫৭

প্রতিকী ছবি

নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হতে যাচ্ছে ২০২০ সালের নতুন বই মুদ্রণের কাজ। তবে এবারও ৬ষ্ঠ, নবম ও দশম শ্রেণীর গার্হস্থ্য বইয়ের বিতর্কিত বিষয়গুলো থেকেই যাচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।

২০১৯ সালে ৬ষ্ঠ, নবম ও দশম শ্রেণীর গার্হস্থ্য বইয়ের কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন শিক্ষাবিদরা। নবম ও দশম শ্রেণির গার্হস্থ্য বইয়ে, 'পোশাকের শিল্প উপাদান ও শিল্প নীতি' অধ্যায়ে মোটা, খাট, ফর্সা, ও শ্যামলা মেয়েরা কেমন পোশাক পরবে তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান বইয়ের পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়ে সৌদি আরব, ভারতসহ কয়েকটি দেশের পোশাকের বর্ণনা দিয়ে সংস্কৃতি, বয়স অনুসারে পোশাক পড়তে বলা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের চেয়ারম্যান জানাচ্ছেন আসছে বছরে বানানের বিষয়ে সতর্কতা থাকলেও, যেসব অধ্যায় নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল তা অপরিবর্তিত থাকছে ।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্ক বোর্ড চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, যদি কোন মুদ্রণজনিত ত্রুটি বা বানান ভুল থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে সেগুলো আমরা পরিমার্জন করে দিয়েছি। তবে নতুন কোন সংযোজন নেই। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা নতুন কারিকুলাম পরিমার্জন করতে যাচ্ছি।

বিতর্কিত অধ্যায় সংশোধণ না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

এক অভিভাবক বলেন, পোশাকের যে ব্যপার রয়েছে, সেটা এখনি যদি বাচ্চাদের বোঝানো হয়। তাহলে ওরা সাইকোলজি একটা দিকে চলে যাবে, যে মেয়ের এই রকম পোশাক পড়তে হবে, ছেলের এই রকম পোশাক পড়তে হবে।

নানা সময়ে আপত্তি তোলার পরও সংশোধন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষাবিদরা আবারো উদার, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বোধসম্পন্ন পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, মেয়েদের পোশাকের বিষয়টি নিয়ে কথা উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তকগুলো হবে শিশুবান্ধব।

বিশ্বশিক্ষক ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, আগামী প্রজম্মকে তৈরি করার জন্য এইগুলো সঠিক নয়, এখান থেকে সরে আসা দরকার।

২০২০ সালে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ১৯৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে তুলে দেয়া হবে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৩৮ বই। যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৮ লাখ ১৬ হাজার ৫৬২ টি বই বেশি। আসছে বছরের বই ছাপাতে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা।

 

সূত্রঃ সময় সংবাদ

 
 
আরিপি/ এমএএইচ
 


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top