রাজশাহী সোমবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫শে মাঘ ১৪২৯


মাধ্যমিকের খাতা পুনঃমূল্যায়নের দাবি পরীক্ষার্থীদের


প্রকাশিত:
৪ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩:৩৬

আপডেট:
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:০৬

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি প্রকাশিত মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। রাজশাহীর সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক পাশ করা শিক্ষার্থীদের একটা অংশ এ দাবি করেন।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সমবেত হয়ে সাংবাদিকদের এসব জানান শিক্ষার্থীরা। এসময় অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবককেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

রাজশাহী নগরীর সরকারি প্রমথনাথ (পিএন) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রেজওয়ানা মুনিম বলেন, এইবার এসএসসি পরীক্ষায় দেখা গেছে বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন রকম সমস্যা উত্থাপন করা হয়েছে। আমাদের দাবি, আমাদের বাংলা ও ইংরেজি খাতাগুলো অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমাদের ‘ক’ সেকশনের ৭০ জন শিক্ষার্থী ঢালাওভাবে মার্ক দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজিতে কিন্তু লেখার কিছু নেই, বেশিরভাগই গ্রামাটিক। যেখানে সঠিক হলে নম্বর পাবে, ভুল হলে নম্বর যাবে। সেখানে কিন্তু আমাদের সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও নম্বর পাই নি।

তিনি আরও বলেন, বাংলার ক্ষেত্রে আবার ক সেকশনে দেখা গেছে ঢালাওভাবে ১৮০ থেকে ১৮৫ রেঞ্জের মধ্যে নম্বর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখানে দুইটা রেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের দাবি, আমাদের খাতাগুলো যারা দেখেছেন, আমরা বলতে চাচ্ছি না যে তারা খাতার অবমূল্যায়ন করেছেন। কিংবা কোনো শিক্ষককে এটাও বলতে চাচ্ছি না যে খাতা দেখতে ভুল হয়েছে। প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীর অধিকার তার খাতাটা নির্দিষ্টভাবে মূল্যায়ন করার।

আমরা বোর্ড পরীক্ষাগুলো কিসের জন্য দেই? একটা নির্দিষ্ট আশা-প্রত্যাশা থেকেই বোর্ড পরীক্ষাগুলো দেই। বোর্ড পরীক্ষায় সচরাচর দেখা যায়, কিছু ভালো সংখ্যক শিক্ষার্থী খারাপ করে, আবার কিছু ভালো সংখ্যক শিক্ষার্থী খারাপ করে। কিন্তু এবার কি হয়েছে? এক রুমে সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের যারা পরীক্ষা দিয়েছি তাদের প্রত্যেককে নির্দিষ্ট একটা রেঞ্জে মার্ক দেওয়া হয়েছে। ঠিক কোন কারণে এই রেঞ্জে মার্ক দেওয়া হয়েছে সেই প্রশ্নও রাখেন এই শিক্ষার্থী।

তিনি দাবি জানান, আমাদের প্রত্যেকের খাতা চ্যালেঞ্জ আবেদন করা হয়েছে, আমরা চাই আমাদের খাতা আবারও মূল্যায়ন করা হোক। আমাদের নম্বর গণনা নয়, যেটা লিখেছি সেটার ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হোক। আমরা চাই বোর্ড পরীক্ষাগুলো অন্তত সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হোক। পরবর্তীতে যারা পরীক্ষা দিবে অন্তত তাদের খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হোক, যেন আমাদের মতো ভোগান্তি তাদের পোহাতে না হয়।

খারাপ পরীক্ষা দিয়েও অনেকে ভালো ফল পেয়েছে উল্লেখ করে এই পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অনেকে দেখা গেছে লেখা শেষ করতে পারে নি, এক্সাম শেষে হতাশাজনক কথা বলেছে তাদের ম্যাথ ভুল হয়েছে, এমসিকিউ ঠিকভাবে পূরণ করতে পারে নি। কারণ ১৫ মিনিটে ১৫টি এমসিকিউ পূরণ করতে হতো। অনেকে লেখা শেষ করতে না পেরে হল থেকে এসে কান্নাকাটি করতো। অথচ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে তারা পূর্ণ নম্বর পেয়েছে। খাতা কিভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এটা থেকেই সেটা স্পষ্ট হওয়া যায়। তবে কি আমরা বলবো, আমাদের খাতা না দেখেই মনগড়া নম্বর দেওয়া হয়েছে?

লতিফা খাতুন নামের এক অভিভাবক বলেন, পিএন গার্লস স্কুলের ক সেকশনের মেয়েদের সাথে খুবই অবিচার করা হয়েছে, যেটা আমরা আশাও করি নি। গোল্ডেন পেয়েছে সবাই, কিন্তু মার্কে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। ১২০০ থেকে ১২৫০ এর মধ্যে ক সেকশনের মাত্র দুইটা মেয়ে মার্ক পেয়েছে। আমাদের মেয়েরা তো এতো দুর্বল না। ‘ক’ সেকশনের মেয়েরা অনেক ভালো, পুরো জেলার মধ্যেই তারা সেরা বলা যায়। কিন্তু সেই অনুযায়ী তারা নম্বরটা পায় নি।

আমাদের দাবি, খাতাগুলো পুনঃনিরীক্ষণ হোক। খাতা পুনরায় দেখা হলে তাদের যে ন্যায্য প্রাপ্য, তারা সেটা পাবে। মর্নিং শিফটের মেয়েরা ১৬০ থেকে ১৮০/৮৫র মধ্যেই পেয়েছে, অথচ ডে শিফটের মেয়েরা ২০০ তে ২০০ পর্যন্ত পেয়েছে অনেকে। এতো বেশি তো পার্থক্য হবে না বলেও জানান এই অভিভাবক।

এ বিষয়ে জানতে রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সরেজমিনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলামের কক্ষে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে একাধিক বার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

এছাড়াও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর হবিবুর রহমানের মোবাইল বন্ধ থাকায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

আরপি/এসআর-০৮



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top