ইভিএম নিয়ে ‘অপপ্রচার’ ঠেকাতে হার্ডলাইনে ইসি

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে ‘অপপ্রচারকারী’ চিহ্নিত করতে হার্ডলাইনে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ইভিএমে ভোট নিয়ে ভাইরাল হওয়া বক্তব্য আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার (৩১ মে) ইসির যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।
আসাদুজ্জামান জানান, ইভিএমের ভোট সম্পর্কে বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবুল হক চৌধুরীর ফেসবুকে অপপ্রচারের বিষয়টি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক চৌধুরীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সেখানে তিনি বলেছেন, ‘ইভিএম করেছে সরকার। একটু কষ্ট করে গিয়ে আঙুলে চাপ দিয়ে ভোট দিতে হবে। চাপ দিতে না পারলে চাপ দেওয়ার জন্য সেখানে আমি মানুষ রাখব।’
এই চেয়ারম্যান প্রার্থী আরও বলেন, ‘রিকশা করে পারেন, যেভাবে পারেন ভোটটা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ইভিএম না হলে সব সিল আমিই মেরে দিতাম, কাউকে খুঁজতাম না। কথা বোঝেননি, ইভিএমে আইডি কার্ড না ঢুকালে ভোট হয় না। হলে আমি ভোট রাতেই নিয়ে নিতাম। তাই আপনাদের কষ্ট করে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যেতে হবে।
এর আগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ডিসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলে ইসি। এরপর ঘটনা সত্যতা পাওয়ার প্রতিবেদনও পাঠায় জেলা প্রশাসক।
তথ্যমতে, বর্তমানে ইসির হাতে দেড় লাখের মতো ইভিএম আছে। কমিশন চাইলে এই সংখ্যক ইভিএম মেশিন দিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১০০ আসনে ভোট করতে পারবে।
বর্তমান কমিশনের অধীনে আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ছয়টি পৌরসভা, ১৩৫টি ইউপিতে সাধারণ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বেশ কিছু উপনির্বাচন রয়েছে। এটাই তাদের প্রথম নির্বাচন। তাই শুরু থেকেই এ নিয়ে বেশ সতর্ক ইসি। বাঁশখালীর এই ইউনিয়নেও ১৫তারিখে ভোটগ্রহণ করা হবে।
আরপি/এসআর-০৬
বিষয়: ইভিএম নির্বাচন কমিশন
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: