রাজশাহী সোমবার, ২২শে জুলাই ২০২৪, ৮ই শ্রাবণ ১৪৩১


রাজশাহী কলেজের সামনে

রাস্তা পারাপারে বিড়ম্বনার শিকার শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত:
৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:১৮

আপডেট:
৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৭:০৭

ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পার, সাথে যৌন হয়রানি

দেশসেরায় পরপর হ্যাট্রিক করা কলেজ রাজশাহী কলেজ। ঘড়ির কাঁটা ১২ টা ৩০ মিনিট পার হয়েছে মাত্র। ক্লাস শেষ হওয়ার দরুণ রুমের দিকে পা বাড়িয়েছে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু, কলেজ থেকে বেরিয়ে রাস্তা পারাপারে বিড়ম্বনার শিকার শিক্ষার্থীরা। দাঁড়িয়ে থেকে মেলেনা সময়। যেই পার হবে, এই বুঝি ধাক্কা খেলাম! সাথে থাকছে যৌন হয়রানির মতো স্পর্শকাতর ইস্যু।

মেয়েদের শিষ দেওয়া, অস্ফুট শব্দ করা, ধাক্কা দেওয়া, গাড়ি দিয়ে ইচ্ছেকৃত আঘাত ইত্যাদি প্রতিদিনকার ঘটনা।

আশংঙ্কা এবং ভয় নিয়ে রাস্তার মাঝে গাড়ির ভিড় ঠেলে পার হতে হচ্ছে কলেজের শিক্ষক এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে। ফলে প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা। শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের জন্য একটি ফুট ওভার ব্রিজ স্থাপনের দাবি বহুদিনের। কিন্তু কলেজ প্রশাসন থেকে নানা উদ্যোগ নিলেও কিছুতেই ফল পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। মাঝে মাঝে ইটের গুড়ি (খোয়া) দিয়ে তৈরি করা হয় স্প্রিড ব্রেকার। অপরদিকে, নাছোড়বান্দা সিটি কর্পোরেশন রাস্তার মাঝে স্পিড ব্রেকার রাখতে নারাজ। কলেজের দিকে সিটি কর্পোরেশনের ভ্রুক্ষেপ নেই মোটেও।

কলেজ প্রশাসনের কি ভূমিকা রয়েছে প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, কলেজের সামনে এভাবে বেপরোয়া গাড়ি চলাচলে শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হয়। কলেজ প্রশাসন রাস্তার মাঝে ২টি স্পিড ব্রেকার দিয়েছিল। সিটি কর্পোরেশন তা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তারা বলছেন এই রাস্তার মাঝে ডিভাইডার রাখা যাবে না।

সিটি কর্পোরেশন কিছু আশ্বাস দিয়েছে কি –না এমন প্রশ্নে  তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন একটা ফুট ওভার ব্রিজ দেবেন বলেছেন। কিন্তু কবে নাগাদ দেবেন তা বলা যাচ্ছে না।

রাজশাহী কলেজ আরসিএনসিসি ক্লাবের সেক্রেটারি আবু সালেহ বলেন, আমরা কলেজের ভিতরে নিরাপত্তার সাথে থাকতে পারি কিন্তু কলেজ থেকে দু-পা বাইরে রাস্তাতেই দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। আমি নিজেও একদিন ব্যাটারি চালিত অটোর সাথে ধাক্কা খায়। এভাবে আর কতদিন চলে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী  জানান, রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং থাকলেও নামমাত্র। কোন কাজে আসে না আমাদের। গাড়িচালকরা না দাড়িয়ে দ্রুতবেগে গাড়ি চালিয়ে চলে যান। মাঝে মধ্যে গা ঘেষে গাড়ি চালিয়ে দেন।  

কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ফয়সাল আহমেদ বলেন, বেপরোয়া গাড়ির কবলে পড়ে কবে জীবন চলে যায় তার নিশ্চয়তা নেই। সিটি কর্পোরেশনসহ সকলের মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ ভয়াবহ সংস্কৃতি দূর হবে না। সরকার রাস্তাঘাট তৈরি করছেন যেমন, তার চলাচল আইন আরো তত মজবুত করা দরকার। তাছাড়া আমরা কেউ নিরাপদে চলাচল করতে পারব না।

চাতকের মতো ফুট ওভার ব্রিজ কবে পাব চেয়ে থাকার আদৌ কি শেষ হবে? নাকি- দাঁড়ান মামা একটু রাস্তা পার হয়ে নিই! অনুগ্রহে কলেজ জীবন শেষ করতে হবে শিক্ষার্থীদের সেটাই এখন দেখার পালা।

 

 

আরপি/এমএইচ

 

 

 

 

 

 

 

 

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top