রাজশাহী সোমবার, ২২শে জুলাই ২০২৪, ৮ই শ্রাবণ ১৪৩১


অসহায় ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ছাত্রলীগ নেতা জাফর


প্রকাশিত:
২৮ মে ২০২৩ ২৩:১৬

আপডেট:
২৮ মে ২০২৩ ২৩:২৪

অসহায় ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ছাত্রলীগ নেতা জাফর

নাটোরের আব্দুল্লাপুর লালপুরের বাসিন্দা ভ্যানচালক রাজদার আলীর কোন পুত্র সন্তান নেই। সৃষ্টিকর্তার রহমত হিসেবে পেয়েছেন তিন মেয়ে। বড় দুই মেয়ে শশুর বাড়ি গেছে বছর কয়েক আগে। ছোট মেয়ে তুষি আক্তারকে নিয়ে টিনশেড ঘরে বসবাস জোৎস্না বেগমের। হাঁস-মুরগি বিক্রির খুচরো পয়সা আর বাবার ভ্যানচালানোর রোজকার আয় দিয়েই চলে তুষির পরিবার। সময়ের অসম স্রোতে পাড়ি দিয়ে এবার এইচএসসি পাস করেছে তুষি। মেধাক্রমে চান্স পেয়েছে দেশসেরা রাজশাহী কলেজে। কিন্তু বিধি বাম! ভর্তির কানাকড়িও নেই!

রোববার কলেজের রবীন্দ্র-নজরুল চত্ত¦রের পাশে বেদিতে বসে কাঁদছিলেন তুষি। পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে সাহস জোগাচ্ছেন ফুফু মাবিয়া খাতুন। জগতের হাজারো চিন্তা যেন মাথায় পাহাড় হয়ে চেপে বসেছে তাঁর। ভর্তি হওয়া হবে না! পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না তাঁর। ঠিক এমন সময় ত্রাণকর্তা হিসেবে আর্বিভূত হন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা জাফর। তাৎক্ষণাৎ ভর্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আগামী সময়ে পাশে থাকার অঙ্গিকার করেন।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাফর বলেন, গ্রাম কিংবা শহরের হোক যেকোন অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবা করা মানবধর্ম। মানুষের স্বপ্ন পূরণে সঠিক পথে আমরা ছাত্রলীগ সহায়তা করতে চাই। কোচিং বা প্রাইভেট ছাড়াই উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরেয়ে তুষি নামের মেয়ে রাজশাহী কলেজে মার্কেটিং বিভাগে চান্স পেয়েছে। আমরা তাঁর স্বপ্নের সিঁড়িতে আরেকটি ধাপ এগিয়ে দিতেই ভর্তির ব্যবস্থা করেছি। মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা ছাত্রলীগের ঐতিহ্য। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। মানুষের বিপদে-আপদে ঝাঁপিয়ে পড়া আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য। তুষি অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রী। আমরা সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়ালে তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। মেধাবী তুষি নাটোরের তথা দেশের একজন সম্পদে পরিণত হবে।

তুষির মা জোৎস্না বেগমের সাথে কথা বলেন জাফর। আশ^াস দেন পড়াশোনা শেষ হওয়া অবধি আর্থিকভাবে সহয়তা করার। এতে খুশিতে মুঠোফোনেই কন্ঠ ভারি হয়ে আসে তাঁর। অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়ানোয় শুকরিয়া করেন তিনি।

জোৎস্না বেগম জানান, নিজের সামান্যও জমিজমা নাই। পানের খিলি বিক্রির একটা টঙ দোকান ছিল তাঁর স্বামির। করোনায় তা বন্ধ হলে ভ্যান কিনেন। পাশাপাশি দিনমজুরিও করছেন। কিন্তু তিনি বুকের ব্যাথায় আক্রান্ত হওয়ায় দরিদ্রতার কারণে ভালোমতো চিকিৎসাও জোটেনি ভাগ্যে। তাই মেয়েকে পড়াশোনার খরচ দিবেন কিভাবে! একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন অসহায়ত্বের কথা অকোপটে স্বীকার করলেন এই সংগ্রামী নারী।

প্রসঙ্গত, এর আগে সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হতে না পারা মেধাবী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তার ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া, হলে সিটের ব্যবস্থা করা, ছিন্নমূল-পথশিশুদের খাবার বিতরণ, বিভিন্ন বিপদে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকাসহ বিভিন্ন ভালো কাজ করে বিভিন্ন সময় সুনাম কুড়িয়েছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা জাফর।

 

আরপি/এমএইচ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top