রাজশাহী বুধবার, ২৪শে জুলাই ২০২৪, ১০ই শ্রাবণ ১৪৩১


পদ্মফুলের হাসিতে বিমোহিত দর্শনার্থীরা


প্রকাশিত:
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১০:২৫

আপডেট:
২৪ জুলাই ২০২৪ ১৪:৩৪

ছবি: রাজশাহী পোস্ট

পৃথিবীতে ফুল হলো সৌন্দর্যের প্রতীক আর পদ্মকে মনে করা হয় পবিত্রতার প্রতীক।যদিও প্রত্যেক ফুলই নিতান্তই প্রবিত্র। প্রতিটি মানুষের মনে প্রশান্তি আসে এই ফুলের মনোরম শোভনীয় গুনে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে পদ্ম ফুল বাঙালির সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যর সাথে সম্পর্কিত। নৈর্সগিক অপরুপ আর নান্দনিকতা ক্যাম্পাসের আরেক নাম দেশসেরা রাজশাহী কলেজ।

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে জুড়ি নেই কলেজ পুকুরে ফুটন্ত পদ্ম’র। রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ভবনের পেছনে পুকুরের পাড় সংলগ্ন অগভীর পানিতে সেই সদ্য ফটন্ত পদ্ম’র চোখ জুড়ানো হাসির দেখা মিললো। কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারি এবং দর্শনার্থীকেও বিমোহিত করবে ফুটন্ত পদ্ম।

ঐতিহ্যবাহী কলেজটি তার নিজ কৃতিত্ব, লাল দেয়ালের পুরনো ভবন, পরিকল্পিত গাছগাছালী ঘেরা মনরম পরিবেশের জন্য সুপরিচিত। এই সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ রাজশাহী কলেজের প্রস্ফুটিত পদ্মে ঘেরা পদ্মপুকুর। যা শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বাইরে থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের উপভোগের অন্যতম খোরাক। পুকুরের চার পাশে হরেক রকম গাছপালা ঘেরা পরিবেশে বসার সু-ব্যবস্থা, পরিষ্কার পানি তার মধ্যে শত শত পদ্মফুল সকলকে আকর্ষিত করে।

বর্ষা ও শরতকালে খাল-বিলের পানিতে পদ্মফুল শোভাবর্ধন করে। সবুজ বড় বড় পাতার ফাকে হাল্কা গোলাপি, সাদা কিম্বা লাল পদ্ম ফুল তার সৌন্দর্য দিয়ে সকলকে বিমহিত করছে।

রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ভবনের পেছনে পুকুরের পাড়ে ফটন্ত পদ্ম

পদ্মফুল দেখতে কেউ আসছেন পরিবারের সদস্য নিয়ে, আবার কেউ কেউ আসছেন বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে বেড়াতে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের আড্ডা, আনন্দ আর হৈচৈ এ মুখরিত হয়ে উঠে। পুকুরজুড়ে পদ্মফুলের সাথে ছবি তোলে ফ্রেমে বন্দি করে রাখছেন অনেকেই।

রাজশাহী কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া আফরোজ বলেন, সম্পূর্ণ পুকুরে যখন পদ্ম ফুল ফোটে তখন কলেজের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায়। একটা সময় আমাদের দেশে অনেক পদ্ম দেখা যেতো। কিন্তু বর্তমান সময় বিল জলাশয় ভরাট করে ফেলার কারণে পদ্ম ফুল বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। এই প্রকৃতির সৌন্দর্যকে রক্ষা করতে হবে।

রাজশাহী কলেজের দর্শন বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী সিমলা বলেন, রাজশাহী কলেজের সৌন্দর্যের একাংশ হলো পদ্ম পুকুর। তাই ফুটে থাকা পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছি। এসে খুব ভালো লাগছে।

রাজশাহী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র নাহিদ বলেন, দেশসেরা রাজশাহী কলেজের অপরুপ সৌন্দর্যের মধ্যে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য অপরসীম। দৃষ্টিনন্দন সারি সারি পদ্মফুল দেখে খুবই আনন্দ পেলাম। তবে অনেকেই পদ্ম ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা দেখতে খুবই খারাপ লাগছে। যদিও কলেজ প্রশাসন এর ব্যাপারে ব্যাপক সজাগ।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, পদ্ম (lotus) নিমফিসিয়া জাতের ভাসমান জলজ উদ্ভিদ। প্রায় সবসময় যেই জায়গায় পানি থাকে এমন জায়গায় ভালো পদ্ম ফুল জন্মে। এই ফুলগুলো সাধারণত গোলাকৃতি এবং এর পাতাগুলো পানিতে লেপটে থাকে। কখনো কখোনো উঁচু হয়েও থাকে।

রাজশাহী কলেজ উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, এই ফুলগুলো সাধারণত লাল, সাদা ও গোলাপি রঙের হয়। পদ্ম ফুলের মধ্যে ভেষজগুণ রয়েছে। এই ফুলের কান্ড ও বীজ খাওয়া যায়। সনাতন ধর্মালম্বিদের পূজাপার্বণ এ পদ্ম ফুল ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে।

রাজশাহী কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাঃ ওলিউর রহমান বলেন, পদ্মপুকুরের ফুল বর্ষাকালে ফোটে যা অপরুপ রুপে কলেজের সৌন্দর্য বর্ধন করে। পুকুরের চারপাশে বসার যায়গা আছে। শিক্ষার্থীরা অবসরে পুকুর পারে বসে শাপলা, পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে। বাইরে থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই পদ্মফুল এবং পদ্মপুকুর।

 

আরপি/ এমএএইচ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top