রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১


শতভাগ টিকা নিশ্চিতে নানা উদ্যোগ

প্রাণ ফিরছে দেশসেরা রাজশাহী কলেজে


প্রকাশিত:
৩০ অক্টোবর ২০২১ ১৯:১৬

আপডেট:
৩০ অক্টোবর ২০২১ ১৯:৪৬

ছবি: প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাস

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভয়াল থাবায় দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধের পর একে একে খুলতে শুরু করেছে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই কমতে থাকায় অক্টোবরের শুরু থেকেই একের পর এক খুলতে শুরু করে মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের টিকাকরণের আওতায় আনার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে অনেকাংশ। প্রিয় বিদ্যাপীঠগুলো খোলার উচ্ছাসে ত্বরান্বিত হয়েছে শিক্ষার্থীদের টিকাগ্রহণের প্রবণতা। শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় না নিয়ে প্রতিষ্ঠান খুললে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় কয়েক ধাপ বাড়ানো হয় ছুটি।

চলতি মাসের শুরু থেকেই শুরু হয় শিক্ষাজীবনের সর্বোচ্চ প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ও গুচ্ছ পদ্ধতিতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হয় আট বিভাগের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ভর্তিচ্ছুদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠে পুরো দেশ। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকার পর জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যস্ত ভর্তিচ্ছুরা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যমতে, দেশের মোট ৫১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে ৪৭টিতে। তন্মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চলমান রয়েছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থীর অধ্যয়ন চলমান থাকে বছরজুড়ে। এছাড়াও ৫টি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

দীর্ঘ ছুটির পর ক্যাম্পাসে ফিরেছে ঐতিহ্যবাহী ও দেশসেরা বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। কদিন আগেও যেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর, সেখানে এখন বসার জায়গা পাওয়াই ভার। নানা জল্পনা কল্পনা শেষে দীর্ঘ ১৯ মাসেরও অধিক সময় পর প্রাণ ফিরেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ক্যাম্পাসগুলোতে। গত ২১ অক্টোবর স্বশরীরে ক্লাস চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারো মুখরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো। রাজশাহী কলেজেও কলেজ প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ ফুল, মাস্ক ও মিষ্টিমুখ করিয়ে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীদের। সবার অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় পূর্ণতা পেয়েছে লাল সাদা কংক্রিটের ভবনগুলো। কলেজের পদ্ম পুকুর, রজনীকান্ত সেন মঞ্চ, স্বাধীনতা চত্বর, উদয়াস্তে বাংলাদেশ, রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর, বকুল তলাসহ গুরুত্বপূর্ণ ফটকগুলো দলবেঁধে বন্ধুদের খোশগল্পে আবারো ভরপুর হয়ে উঠেছে।

এর আগে করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় ছুটি ঘোষণা করা হয় রাজশাহী কলেজও। কয়েক ধাপের টানা লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়ে সব রকমের শিক্ষা কার্যক্রম। ক্ষতির হার কমাতে অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম চালুসহ নানাবিধ উদ্যোগ হাতে নেয় কলেজ প্রশাসন। করোনাকালজুড়েই শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভাগগুলোও ছিল যথেষ্ট তৎপর।

পুরো করোনাকালজুড়ে নাম মাত্র কার্যক্রম চালাতে বাধ্য ছিল কলেজের সহশিক্ষা সংগঠনগুলো। বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, বাঁধন, রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ প্রায় সব সংগঠনই স্বশরীরে খুব বেশি কার্যক্রম চালাতে পারে নি। অনলাইন সভা, ওয়েবিনার ও দিবস ভিত্তিক কার্যক্রমের গন্ডীর মধ্যেই আবদ্ধ ছিল সংগঠনগুলো। তবে দীর্ঘদিন পর কলেজ চালু হওয়ায় নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছে সংগঠনগুলো।

এবিষয়ে কলেজের ক্লাব অব ম্যাথমেটিক্সের সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার বলেন, করোনার সময় অনেক ইচ্ছা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে খুব বেশি সম্ভব হয় নি। দেড় বছরেরও বেশি সময় পর ক্লাস চালু হলো। শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত হওয়া শুরু করেছেন। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যেই পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

আটকে থাকা মৌখিক পরীক্ষা, ফরম পূরণ ও পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপ মাথায় নিয়েই ক্যাম্পাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যেই শর্ত সাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন পাওয়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের সূচী প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শর্ত সাপেক্ষে ৩য় বর্ষে প্রমোশন পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষার সূচী প্রকাশ হবে অল্পদিনের মধ্যেই। পুরো ৩য় বর্ষ করোনাকালে কাটানো শিক্ষার্থীদেরও ফরম পূরণ শেষ পথে। এছাড়াও করোনাকালে ৪র্থ বর্ষে উন্নীত হওয়া শিক্ষার্থীদেরও ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেই এমন উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবারও প্রাণোচ্ছল ক্যাম্পাস দেখে কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র উজ্জ্বল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ ১৯ মাস পর কলেজে স্বশরীরে ক্লাস করে অনেক ভালো লাগছে। প্রায় সব বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষকদের সাথে দেখা হচ্ছে। সবকিছু যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার টেনশনও নতুন করে শুরু হয়েছে বলে যুক্ত করেন একই বিভাগের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী বিথী।

করোনার থাবায় সেশনজটে পড়েছেন প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সুপরিকল্পিত স্বপ্ন চোখের সামনে ধুলার সাথে মিশে গেলেও নির্বিকার তারা। চাকরি প্রস্তুতির সময় কমে যাওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী রুহানা তাসকিয়া বলেন, অতিমারী করোনা আমাদের যা নষ্ট করে দিয়েছে তা ফিরে পাওয়ার না। সেশনজটের কবলে স্নাতক শেষ না হওয়ায় সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, সামনে ৪৪ তম বিসিএস সার্কুলার আসার সম্ভাবনা। সেটাতেও অংশগ্রহণ করতে পারবো কি না সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। ক্যাম্পাস খোলার আনন্দের সাথে যদি ভবিষ্যৎটা নিয়েও নিশ্চিত হতে পারতাম তাহলে আরও বেশি ভালো লাগতো।

দীর্ঘ সময় পর শিক্ষার্থীদের স্বশরীরে ক্লাসে পেয়ে আনন্দিত কলেজ প্রশাসনও। কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই টিকা নিলেও তা শতভাগে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন স্বয়ং কলেজ প্রশাসন। এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহা. আব্দুল খালেক বলেন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকাকরণের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে প্রতিটি বিভাগ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এক ডোজও টিকা নেয় নি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম।

স্বশরীরে ক্যাম্পাস চালু হলেও হল না খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, হলের সংস্কার কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত হলে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যেই বাকি হলগুলোও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

 

 

আরপি/এসআর-০২



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top