রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১


আগুনরাঙা পলাশে রঙ্গিন লাল সাদা ক্যাম্পাস


প্রকাশিত:
১১ মার্চ ২০২১ ১৬:০২

আপডেট:
১১ মার্চ ২০২১ ১৬:২৪

ছবি: রক্ত মাখা পলাশ

‘হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল.....এনে দে এনে দে নইলে রাঁধব না, বাঁধব না চুল’ খাবার রাঁধতে বা চুল বাঁধতে খোপায় পলাশ ফুলের পরিপূরক যে আর কিছু নেই কবি নজরুলের ভাষায় তা স্পষ্ট। ফুলের প্রতি দুর্বলতা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর ফুলটি যদি হয় পলাশ তবে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ সবাই। শীতের শুষ্কতা ও রুক্ষতাকে কাটিয়ে সজীবতা ফিরিয়ে আনে ঋতুরাজ বসন্ত। পাতা শূন্য বৃক্ষরাজি ভরে যায় সবুজ পাতার ছোঁয়ায়।

পাতা শূন্য গাছে পলাশ ফুলের হাসি যেন আপন করে নিতে চায় সবাইকে। সাহিত্যিকরা পলাশ ফুল নিয়ে রচনা করেন হরেক শত শত গান, কবিতা ও উপন্যাস। তেমনই পলাশের এই রক্ত মাখা সৌন্দর্য থেকে বাদ যায় নি দেশসেরা বিদ্যাঙ্গন রাজশাহী কলেজ।

তিন শতাব্দি ধরে চলা ক্যাম্পাসটির প্রশাসন ভবনের ডান পাশে নির্মিত হয়েছে শহিদ মিনার। শহিদ মিনারের কোল ঘেঁষেই বেড়ে উঠেছে আগুনরাঙা পলাশ ফুলের গাছ। যেই ফুলে মুগ্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মচারিরাও। গাছের প্রতিটি ডাল ছেয়ে গেছে রক্তাভ পলাশে। চোখজুড়ে খেলা করছে লালের আভা। চোখ জুড়ানো পলাশের হাসি যেন সবুজের বুকে এক টুকরো আগুনের স্ফুলিঙ্গ। ভাষার মাসে মহান শহিদদের সম্মান জানাতে ভুল করেনি পলাশও। শহিদ মিনারের বেদীতে অনবরত ঝরে পড়ছে রক্ত মাখা পলাশ। শহিদ মিনারের বেদীতে ঝরে পড়া পলাশ যেন শহীদের রক্তের প্রতিচ্ছবি।

গাছভরা পলাশের সৌন্দর্য এক দিকে যেমন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। করোনার প্রকোপে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পলাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই আসছেন ক্যাম্পাসে। ভিড় জমাচ্ছেন পলাশ গাছের নিচে। অনেকেই পড়ে থাকা পলাশ সংগ্রহ করে মনের খোরাক মিটাচ্ছেন। ফটোসেশনে মেতে উঠছেন তরুণ-তরুণীরা। সেই ছবিই ভেসে বেড়াচ্ছে ফেসবুক ওয়ালে।

এ বিষয়ে কথা হয় কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব হাসানের সাথে। পলাশ ফুল নিয়ে অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, কলেজে প্রবেশ পথের সব থেকে নজর কাড়া দিকটাই হলো ফুটন্ত পলাশ ফুল। এ সময় মনে হয় ফুলগুলো লালের মাঝে নিজের রঙকে মিশিয়ে কলেজকে নতুনভাবে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তোলে। কলেজে অনেক রকমের ফুলের সমারোহ থাকলেও গাছভরা পলাশ আর ঝড়ে পড়া পলাশ ফুলে চারপাশ একটু বেশিই ভালো লাগে।

প্রসঙ্গত পলাশের অন্য নাম ‘কিংশুক’। ইংরেজিতে যা Flame of the forest নামে প্রচলিত। বৈজ্ঞানিক Butea monospera (বুটিয়া মনোস্পার্মা) নামে পরিচিত গাছটির উচ্চতা গড়ে প্রায় ১২ থেকে ১৫ মিটার। থোকায় থোকায় ফুলে পূর্ণ থাকে শাখা-প্রশাখা। কুঁড়ি দেখতে অনেকটা বাঘের নখের মতো। গাছটির বাকল ধুসর রং বিশিষ্ট ।

আঁকাবাঁকা শাখা-প্রশাখা ও কান্ডবিশিষ্ট পলাশের পাতা রেশমের মতোই সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপতি দেখতে মান্দার পাতার মতো হলেও আকারে অনেক বড়। শীত মৌসুমে পাতা ঝরা গাছটি ফুল ফোটার সময় থাকে পাতা শুন্য। নরম শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট গাছটির ফুল শেষে ধরে ফল। পলাশের ফল দেখতে অনেকটা শিমের মতো। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধমে পলাশের বংশ বিস্তার করা হয়।

সুবাস না থাকলেও সৌন্দর্য ছড়াতে জুড়ি নেই পলাশের। আছে ঔষধি গুণাগুণও। পলাশের বিচি থেকে দেশীয় ভেষজ ঔষধ প্রস্তুত করা হয়। জনশ্রুতি আছে, পলাশ গাছের শেকড় থেকে মজবুত দঁড়ি তৈরি করা হতো এক সময়। আর এর পাতা দিয়ে তৈরি হতো থালা।

পলাশ ফুল নিয়ে রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর মহা. আব্দুল খালেক বলেন, শহিদ মিনারের দুই পাশে দুইটি পলাশ গাছ রয়েছে। শুধু শহিদ মিনারকে নয় কলেজের প্রশাসনিক ভবন, কলেজ মিলনায়তন ও গ্রন্থাগারকেও সুসজ্জিত করেছে পলাশ ফুল। ঋতুরাজ বসন্তে প্রকৃতি যে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সেটিকে নতুন রূপ দিয়েছে এটি।

তিনি আরও বলেন, গাছ থেকে মিনারের বেদিতে ঝড়ে পড়া পলাশ আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি তথা ভাষা শহিদদের কথা মনে করিয়ে দেয়। বেদিতে পড়া পলাশ যেন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে ভাষা আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহিদদের।

 

 

আরপি/এসআর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top