চলমান পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে রাবিতে মানববন্ধন

পরীক্ষার স্থগিতাদেশ বাতিল করে চলমান পরীক্ষাগুলো নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে আশ্বাসে আগামী রবিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা চলমান পরীক্ষাগুলো নেওয়ার জোর দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা মেসে থেকেই পরীক্ষা দিতে রাজি আছি। কমপক্ষে চলমান পরীক্ষাগুলো নেওয়া হোক। তাহলে সেশনজটে পড়তে হবে না। এছাড়াও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে ঘোষণা দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জাফর ইকবাল বলেন, আমি ২০১৯ সালের মার্চে অনার্স শেষ করেছি। এখন ২০২১ সালের মার্চ মাস চলে আসছে আমরা মাস্টার্স শেষ করতে পারছি না। আমদের পাঁচটা পরীক্ষা হয়ে গেছে আর তিনটা বাকি আছে। এখন আমদের যে অবস্থা দাড়িয়েছে মাস্টার্স পাশ করতে পারবো কি না সেই অনিশ্চয়তার মধ্যে ভুগছি। আমরা এই অনিশ্চয়তা ও সেশনজট থেকে মুক্তি চাই। আমরা চাই যে চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত হয়েছে সেগুলো খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তমালিকা হক বলেন, ২০১৯ সালের অনার্স ফাইনাল ইয়ার ও মাস্টার্সের পরীক্ষা চলছিল। কিš‘ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হটাৎ পরীক্ষা স্থগিত করেছে। আমি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আমদের একবার পরীক্ষা শুরু হলে তা চার-পাঁচ মাস ধরে চলে। তারপর আবার ল্যাব আছে। এখন যদি পরীক্ষা আবার তিন মাস পরীক্ষা পিছিয়ে যায় তাহলে আমদের পরীক্ষা শেষ হবে কবে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত পরীক্ষার স্থগিত আদেশ তুলে নেওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।
পরে দুপুর সোয়া একটার দিকে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহামন এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তার আশ্বাসে রবিবার পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি বিষয়ে উপাচার্যকে অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুন্দর সমাধান আসবে। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২ জানুয়ারি থেকে করোনার কারণে আটকে থাকা বিভিন্ন বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ার ও মাস্টার্সের পরীক্ষা শুরু হয়। তবে গত ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি সকল বিশ্ববিদ্যালয় ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষনা দেন। এর আগ পর্যন্ত সকল পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দেয়। ওই দিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল পরীক্ষা বন্ধ রাখা নির্দেশ দেয়। এতে কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ফের স্থগিত হয়ে যায়।
আরপি/ এসআই-১
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: