রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১


করোনায় অনলাইন ক্লাস নিয়ে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনা


প্রকাশিত:
২২ জুলাই ২০২০ ০১:৩২

আপডেট:
১৬ জুলাই ২০২৪ ১১:২৯

রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা

মহামারী করনাকালীন সময়ে ঘরবন্দী সবাই। ফলে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কিন্তু সকল দিক বিবেচনা করে উন্নত দেশের ন্যায় এদেশেও অনেক পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নেওয়া শুরু করে। অবশ্য তারও আগেই দেশসেরা বিদ্যাপীঠ রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মুহা. হবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতির কথা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করেন।

তবে রাজশাহী কলেজের অনলাইন ক্লাস কতটা কার্যকর তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের করোনায় ক্লাস বন্ধের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে বা কলেজ কতৃক শিক্ষার্থীদের বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজের ব্যবস্থা না থাকায়, অনেকের পক্ষে ইন্টারনেট ডাটা কিনে ব্যবহার করাও কঠিন বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

দর্শন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন জানান, কলেজ বা ডিপার্টমেন্টের পেজের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ফলে ঘরবন্দী অবস্থায় ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছি। এতে সকল শিক্ষার্থীদের জন্যই উপকার হচ্ছে, ডাউনলোড করে বারবার ভিডিও দেখে পড়তে পারছি। শিক্ষকবৃন্দ আমাদের ক্লাসের নির্দিষ্ট বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এমনকি আমরা বুঝতে না পারলে সেটা বোঝার জন্য আমরা তাদের প্রশ্ন করতে পারছি যা আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস রুমে বসে ক্লাস করার মতোই। যার ফলে নিরবিচ্ছিন্ন ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের পাঠদান কর্মসূচি। তবে অনলাইন ক্লাসের সবথেকে বড় বাঁধা পযার্প্ত নেটওয়ার্ক সুবিধা ও ইন্টারনেট ডাটা।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, এই সময়ে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে এই দুর্যোগের সময়ে আমাদের মধ্যে জ্ঞানের আলো পৌঁছিয়ে দিতে শিক্ষকদের পরিশ্রম ও অনলাইন ক্লাস নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য উপকারী । তবে অনলাইনে ক্লাসের প্রধান সমস্যা ইন্টারনেট স্পিড একদমই খারাপ, বিশেষ করে আমাদের এখানের ৩জি ই ভালো পায় না। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ১ম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী সুলতানা পারভীন বলেন, ১জিবি ইন্টারনেট ডাটা দিয়ে দুই দিনই ভালোভাবে ক্লাস করা যায় না। আর ছাত্রজীবনে ইন্টারনেট ডাটা কিনে অনলাইন ক্লাস দুঃসাধ্য ব্যাপার। ফলে অনেকের পক্ষে আর্থিক খরচ বহন করাও কঠিন।

বাংলা মাষ্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এস আর রুবেল আহমেদ বলেন, একটা কথা বলি জীবন মানেই বাস্তবতা। মানুষ প্রতিদিন যেমন জীবিকার তাগিদে ঝাপিয়ে পড়ে কর্মে কোন ভয় না করে। তেমনি জীবন কে প্রশ্ন করতে হবে করোনা শেষ হলেই তো আমাদের যাত্রা শুরু শেই আশাতেই তো আমরা বুক বাঁধি, নেট সুবিধা আমাদের জন্য পাপ্য যদি অনলাইন ক্লাস চালু থাকে।

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ বেলাল হোসেন জানান, এই মহামারিতে অনলাইন ক্লাস যারা নিয়মিত করছেন তারা অনেক উপকৃত হচ্ছেন, বিশেষ করে আমাদের মার্কেটিং বিভাগে এই অনলাইন ক্লাসের সুবাদে শিক্ষকদের সাথে সারাসরি যোগাযোগ করে ফোনের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসের বাহিরে পড়াশোনা বোঝার বিষয়ে যোগাযোগ হচ্ছে তাতে করে আমরা যেমন বিষয় ভিত্তিক ভালো ধারণা পাচ্ছি, আবার শিক্ষকদের সাথে আরো ভালো সুসম্পর্ক গড়ে উঠছে যেটা আগে কম ঘটতো। কিন্তু যারা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না তাদের বড় সমস্যা হলো ইন্টারনেট ক্রয়, নেটওয়ার্কের সমস্যা ও অনেকেরই স্মার্ট ফোনের অভাব। এই ইন্টারনেট সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য কলেজ কতৃপক্ষ অথবা সরকার যদি এমন কোন অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে, যাতে করে স্বল্প গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট এবং অল্প পরিমাণে ইন্টারনেট ব্যাবহারের মাধ্যমে ক্লাস গুলো আমরা শিক্ষার্থীরা আরো নিয়মিত সম্পন্ন করতে পারি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূগোলের এক শিক্ষার্থী বলেন, অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এক কথায় বলবো, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে করোনাকালীন সময়ে বিকল্প পাঠদান হিসাবে অনলাইন ক্লাস বিরাট ভূমিকা রাখবে। বাস্তবে আদৌ কতোটা সম্ভব সে প্রশ্ন থেকেই যায়? কজন শিক্ষার্থী উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পায়? তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং সরকার শিক্ষার্থীদের মৌলিক অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করলে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তন আশা করা সম্ভব।

বাংলা ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব আলম বলেন, একদিকে আমরা যেমন আমাদের কোয়ারেন্টাইনের অবসর সময়গুলো বোরিং এ কাটাচ্ছি অন্যদিকে পড়াশোনা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি।পড়তে বসলেই মনে হয় যেখানে বেঁচে থাকারই নিশ্চয়তা নেই সেখানে আবার পড়াশোনা! যেখানে প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় টুজি, থ্রীজি কানেক্ট হতেই বিরক্তি এসে যায় সেখানে অনলাইন ক্লাস! তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে বা আমাদের কলেজের পক্ষ থেকে বিশেষ ইন্টারনেট ডাটা প্যাকেজ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন তবে শিক্ষার্থীরা নিজ থেকে ইচ্ছুক না হলেও ফ্রি বা স্বল্প মূল্যে ইন্টারনেট পেয়ে অনলাইন ক্লাসের প্রতি কিছুটা হলেও মনোযোগ দিবে। ফলে তাঁদের দীর্ঘ প্রায় চারমাসের ঘুনেধরা পড়াশোনা থেকে কিছুটা হলেও ফলপ্রসূ হবে বলে আমার মনে হয়!

 

আরপি/আআ-২২



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top