রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১

মাঠে দুলছে আমনের সোনালী শীষ, ধান কাটায় ব্যস্ত চারঘাটের কৃষক


প্রকাশিত:
১৫ নভেম্বর ২০২০ ০১:৪৮

আপডেট:
১৫ নভেম্বর ২০২০ ০১:৫৪

মাঠে দুলছে আমনের সোনালি শীষ

রাজশাহীর চারঘাটের মাঠে মাঠে এখন হাওয়ায় দুলছে আমনের সোনালি শীষ। সবুজের মধ্যে সোনালি ধানের শীষে রঙ্গিন হয়ে উঠছে কৃষকের স্বপ্ন। মাঠজুড়ে ক্রমেই পেকে সোনালি বর্ণ ধারণ করছে আমন ধান। এরইমধ্যে আগাম জাতের কিছু কিছু ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে আমন কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চারঘাট উপজেলার কৃষকরা।

প্রতিবছর হেমন্তের এই সময়ে চারঘাট উপজেলার কৃষকরা সোনালি ধান কাটা শুরু করেন। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে এরই মধ্যে। অগ্রহায়ণে পুরোদমে আমন কাটা-মাড়াই শুরু করবেন চারঘাটের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে সময়মতো পানি ও অনুকূল আবহাওয়া থাকায় অন্য সব বছরের চেয়ে আমন চাষাবাদ ভাল হয়েছে। আশানুরূপ ফলনের চেয়েও বেশি ফলনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কৃষকরা এখন সোনালি ধানের হাওয়ায় দোলানো শীষের মাঝেই বুনছে রঙ্গিন স্বপ্ন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। আমনের ফলনও এবার ভাল হয়েছে।

উপজেলার নিমপাড়া ইউপির কৈ ডাঙা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘাতে আমন চাষাবাদ করেছেন। অন্যসব কৃষকের চেয়ে একটু অগ্রিম আমন রোপণ করেছিলেন তিনি। আগাম প্রস্তুতি এবং কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পোকার তেমন কোন আক্রমণ হয়নি। তাই এবার খুব ভালো ফলনের আশা করছেন।

উপজেলার শলুয়া ইউপির বামনদিঘী গ্রামের কামরুল ইসলাম ৩ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আমন ধান চাষ করেছিলেন। ইতোমধ্যে কাটাও হয়ে গেছে। তিনি মোট ১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। উভয় কৃষকের বক্তব্য এবার ধানের গ্রোথ খুব ভালো।

সদর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার বিলের তলা পর্যন্ত আমন চাষ হয়েছে। সময় মতো বৃষ্টি হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক ভালো আমন ধান চাষ হয়েছে। এবার সময় মতো বৃষ্টির কারণে কোন প্রকার বিলাই ও পোকা নেই। এ কারণে কৃষকের মাঝে বেশ আনন্দের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জানা গেছে, এবার সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে আমন ধান ক্রয় করবে। ৭ নভেম্বর থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ধান ক্রয় চলবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন নাহার বলেন, এ বছর ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। আমন ধানকে রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিভিন্ন মাঠে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়াও কৃষকগণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দলীয় আলোচনা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ প্রভৃতি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে পুরো দমে ধান কাটা শুরু হবে। মাঠের অবস্থা দেখে আশা করা যায় ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।


আরপি / এমবি-২


বিষয়: রাজশাহী


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top