নদী বাঁচাতে চারঘাটে র্যালি ও আলোচনা সভা

রাজশাহীর বিখ্যাত ও প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী নদীর নাম বড়াল। হাজার বছরের ইতিহাসের অমর সাক্ষী এই নদী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার রচনার বহু স্থানে বড়াল নদীর কথা উল্লেখ করেছেন। চারঘাটের পদ্মা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে নাটোর ও পাবনা অতিক্রম করে করতোয়ার সঙ্গে মিলিত হয়ে হুরাসাগরে পড়েছে এ নদী।
বর্তমানে অবৈধ দখল আর স্লুইস গেটের শিকলে বন্দি করা হয়েছে বড়ালের ছুটে চলার গতি। স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে তার সেই ছলছল শব্দ। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বড়াল নদী। যে নদীর থেকে পানি আর মাছে চলতো তীরবর্তী নানা পেশাজীবী মানুষের জীবিকা। সেই নদীতে এখন পাওয়া যায় শুধুই কচুরিপানা। সেখানে রয়েছে মশার অভয়াশ্রমও। গত ২২ শে সেপ্টেম্বর(মঙ্গলবার) ছিল বিশ্ব নদী দিবস।
বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে এসোসিয়েশন ফর-ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এ.এল.আরডি) এর সহযোগীতায় এবং অসহায় দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে শনিবার সকালে চারঘাটে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
চারঘাট উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন চারঘাট পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা, উপজেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ(সনি), অসহায় দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক পারভিন আরা নাসরিন, পিএফজির পিস এ্যাম্বাসেডর আন্জু মনোয়ারা আহমেদ, ফরহাত আলাউদ্দিন মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোজিনা খাতুন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন কুমার কর্মকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশের বেশির ভাগ নদী আজ মৃতপ্রায়। এক সময় বাংলাদেশে ছোট-বড় প্রায় সাড়ে ১৩শ’নদী ছিল। বর্তমানে আছে ৪০৫টি। নদী না বাঁচলে বাঁচবে না বাংলাদেশ। তাই বড়াল নদীসহ সকল নদীর অবৈধ দখল-দুষন বন্ধ করা সহ নাব্যতা রক্ষার দাবি জানান।
আরপি/আআ
বিষয়: চারঘাট আলোচনা সভা র্যালি
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: