প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মিথ্যা অপবাদ, কলেজছাত্রীর আত্মহনন!

রাজশাহী নগরীতে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সুমাইয়া রহমান সুমি (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীকে মিথ্যা অপবাদ, গালমন্দ ও নানাভাবে উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এসব সইতে না পেরে ওই কলেজ ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে।
গত ১৮ জুন নগরীর বুলনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুমির মা হীরা বেগম বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় ৩০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সুমি নগরীর হাজী জমির উদ্দীন শাফিনা মহিলা ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়তো। তার বাবা মারা গেলে মা হীরা বেগম আরেকজনকে বিয়ে করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বুলনপুর এলাকার মো. রবির ছেলে রুবেল হোসেন বিবাহিত হওয়া সত্বেও সুমিকে বিয়ের জন্য পারিবারিকভাবে প্রস্তাব পাঠান। এছাড়া এর আগেও তিনি একজনকে তালাক দেন। তবুও তৃতীয়বারের মতো বিয়ের ইচ্ছায় সুমিকে পছন্দ করতেন তিনি। ফলে প্রস্তাব পাঠান।
তবে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুমির মা এতে সাড়া না দেয়ায় নানারকম অপবাদ দিতে থাকেন রুবেল। সুমি কলেজে যাওয়া আসার সময় নানাভাবে উত্যক্ত করাসহ বাড়ির সামনে এসেও নানারকম ভাষায় গালিগালাজ করতেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন দুপুর ১২ টার সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন রুবেল হোসেন। সুমি এসব সইতে না পেরে দুপুর ১ টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে চিরবিদায় নেয়।
সুমির মা এঘটনায় রুবেল হোসেন, তার মা সাবিনা বেগম ও বাবা মো. রবিকে আসামী করে রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করলে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। গত ৭ জুলাই রুবেলের মা-বাবা জামিনে বেরিয়ে আসেন। আর বর্তমানে রুবেল কারাগারে আটক রয়েছেন।
তবে রুবেলের পরিবার এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে। রুবেলের বোন টুকটুকি খাতুন জানান, এ ঘটনাটি পুরোটাই মিথ্যা। কেননা ঘটনার দিন তার ভাই ঘটনাস্থলে ছিলেনই না। শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন।
এবিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে গেলে এক পুলিশ কনস্টেবলের আচরণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ওসি নিজেই বাইরে বেরিয়ে এসে এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
তবে মামলার তদন্তকারী রাজপাড়া থানার এসআই ইকবাল হোসেন ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, মিডিয়া উইং আছেন। তারা কথা বলবেন। আমরা বলতে পারিনা। তবে দ্রুতই মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়াটাই হীরা বেগমের সাময়িক স্বস্তি। সেটির দাবিই জানিয়েছেন তিনি। হীরা বেগম ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া মেয়ের বাল্যবিয়ে না দিয়ে চেয়েছিলেন সুশিক্ষিত ও আদর্শ নারী হিসেবে গড়ে তুলতে। সেই স্বপ্ন অধরায় রয়ে গেল তার।
আরপি/আআ-০৬
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: