পরীক্ষাকেন্দ্রে এমপির ফেসবুক লাইভ, সঙ্গে ছিলেন ইউএনও

এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে লাইভ সম্প্রচার করেছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। এ সময় বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানমকেও এমপির সঙ্গে দেখা গেছে। অথচ পরীক্ষা নীতিমালায় পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ প্রবেশই নিষিদ্ধ।
পরীক্ষার কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ এবং ফেসবুক লাইভ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য এনামুল হক বলেন, ‘তো কী হয়েছে!’ যদিও দুই ঘণ্টা পর তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভটি সরিয়ে ফেলেন তিনি। তবে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের কিছু ছবি এখনও সংসদ সদস্যের ফেসবুক আইডিতে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারার সালেহা ইমারত গার্লস একাডেমি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান এমপি এনামুল হক। তখন তার ফেসবুক আইডি থেকে এমপির ওই পরিদর্শন লাইভ করা হয়।
সংসদ সদস্যের ওই লাইভে দেখা যায়, পরিদর্শনকালে এনামুল হক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। অনেকের প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে পড়তেও দেখা গেছে তাকে। ফলে অনেক পরীক্ষার্থীকেই লেখা বন্ধ করে বসে থাকার চিত্র ভেসে আসে লাইভে। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদা খানমকেও ওই লাইভে এমপির সাথে পরীক্ষা পরিদর্শন করছেন।
rajshahi mp
তবে এমপি এনামুল হকের সঙ্গে নয় পৃথকভাবে কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও সাইদা খানম। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এমপি সাহেব উনি উনার মতো এসেছেন, আমি আমার মতো গিয়েছি।’
এমপি এনামুলের পরিদর্শনের বিষয়টি লাইভ সম্প্রচার প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ওখানে যে লাইভ সম্প্রচার হয়েছে সেটা আমার চোখে পড়ে নি।’
দলবল নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন এবং ফেসবুকে লাইভ করার বিষয়ে এমপি এনামুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি একটা ভালো কাজে গেছি লাইভ টেলিকাস্ট হয়েছে তো প্রবলেমটা কি?’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে এমপি-মন্ত্রীরা যায় না? আপনারা দেখেন না টিভিতে? তাহলে সমস্যাটা কি? আমি তো প্রশ্ন আউট করছি না। না কোনো বাচ্চাকে পরীক্ষার উত্তর বলে দিয়েছি? আপনারা কেন এতো প্রশ্ন করছেন? আপনাদের সমস্যাটা কি এটাই বুঝতে পারছি না। নাকি আপনাদের কেউ কমপ্লেইন করেছে?'
পরীক্ষা নীতিমালা প্রসঙ্গে এমপি এনামুল হক বলেন, ‘কোথায় নীতিমালা করা আছে যে লাইভ টেলিকাস্ট করা যাবে না? আমি গেছি ভিজিটে। তিন বছর পর ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দিচ্ছে। সেই পরীক্ষা কেন্দ্রে এমপি-মন্ত্রীরা গেলে ছেলেমেয়েরা ইনসপায়ার্ড (অনুপ্রাণিত) হয় এজন্য গিয়েছি। এটার একটা গুরুত্ব আছে। কত ইম্পর্ট্যান্ট জিনিস বাদ দিয়ে আপনারা ছোটখাটো জিনিস নিয়ে চিল্লান’—বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।
পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে লাইভ তো দূরের কথা, মোবাইল ফোন ব্যবহার করারই সুযোগ নেই।’ এমপির মোবাইল থেকে লাইভ করা হয়েছে কি না তা তিনি দেখেননি বলে দাবি করেন।
পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একমাত্র কেন্দ্র সচিব পরীক্ষাকেন্দ্রে একটি ফিচার ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় এমন স্মার্টফোনও ব্যবহার করতে পারবেন না। তিনি ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। মন্ত্রী পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলেও তিনি গাড়িতে ফোন রেখে যান। ’
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট নিজ নির্বাচনী এলাকা বাগমারায় করোনার গণটিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে গিয়ে এক বৃদ্ধের শরীরে টিকা পুশ করেন এমপি এনামুল হক। একজন প্রকৌশলীর এমন কাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
আরপি/এসএইচ
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: