রাজশাহী মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই ২০২৪, ২রা শ্রাবণ ১৪৩১

মেয়র লিটনের দুই বছর

নগরজুড়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন, বিস্তীর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক


প্রকাশিত:
৫ অক্টোবর ২০২০ ০৪:৫৭

আপডেট:
১৬ জুলাই ২০২৪ ১৪:৩৫

দুই বছর পূর্বের রাজশাহী মহানগরীর সাথে মিল নেই বর্তমান চেহারার। উড়াল সেতু, প্রশস্ত সড়ক, দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ফুলে ফুলে সজ্জিত ও আলো ঝলমলে শহর এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ পাল্টে দিয়েছে নগরীর চেহারা। এর সাথে যোগ হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প, যার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। কর্মসংস্থানের জন্য তিনটি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজেও অগ্রগতি হয়েছে। এমন উন্নয়নের কারিগর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) ২য় মেয়াদে মেয়রের দায়িত্বগ্রহণের দুই বছরপূর্তি হচ্ছে।

২০১৮ সালে ৩০ জুলাই রাসিক নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য সন্তান এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। ‘চলো বদলে দেই’- অনন্য এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ওই নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মেয়রকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শপথের একমাস পর ৫ অক্টোবর শতকোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০১৯ সালের ২৮ মে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদ লাভ করেন মেয়র লিটন।

দায়িত্ব নিয়েই তিনি রাজশাহীকে একটি পরিচ্ছন্ন, উন্নত ও বাসযোগ্য স্বপ্নের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেন। শুরুতেই সিটি কর্পোরেশনে শৃঙ্খলা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন মাসের শুরুতে প্রদান করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর গৃহিত পদক্ষেপে ধীরে ধীরে রাজশাহী পরিণত হয়ে উঠে সবুজ আর ফুলের নগরীতে। ফলশ্রুতিতে দেশের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে ‘এনভায়রনমেন্ট ফ্রেন্ডলি সিটি অব দ্য ইয়ার-২০২০ সম্মাননা’ অর্জন করে এই মহানগরী।

দুই বছরেই নগরীর যোগাযোগের এসেছে আমূল পরিবর্তন। ১৮৯ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় আলিফ লাম মীম ভাটার মোড় হতে বিহাস পর্যন্ত ৬ দশমকি ৭৯৩ কিলোমিটার ৪ লেন সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের দুই পাশে ফুটপাথ, ১টি ব্রীজ, ৮টি কালভার্ট, মিডিয়ান ও ট্রাফিক কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ২৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩২ টাকা ব্যয়ে ২০২ দশমিক ৫০ মিটারের ফ্লাইওভার এবং ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য এর র‌্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। রাজশাহীর প্রথম ফ্লাইওভার নগরবাসীর নজর কেড়েছে।

১৬৪ কোটি ১৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে আলুপট্টি মোড় থেকে তালাইমারি সড়কটি প্রশস্ত করে ৪ লেন সড়কে উন্নীতকরণ কাজ চলমান রয়েছে। সড়কের দুই পাশে ২ দশমিক ২০ মিটার চওড়া ফুটপাথ নির্মাণ ও আধুনিক সড়ক বাতি স্থাপন করা হবে।

নগরবাসীকে এই যানজট থেকে মুক্তি দিতে প্রশস্ত করা হয়েছে বিভিন্ন সড়ক।মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মনিচত্বর থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীর, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৮১ লাখ ১০ হাজার ৮৪৮ টাকা।

বিলসিমলা রেলক্রসিং হতে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত সড়ক ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৮০ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। দুইপাশে ফুটপাত, ড্রেন ও দক্ষিণপাশে বাই সাইকেল লেন নির্মিত হয়েছে। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য আইল্যান্ডের কাজ চলমান আছে।

এই চারটি প্রকল্প ছাড়াও ১২৬ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে উপশহর থেকে নগর ভবন, মালোপাড়া মোড় হয়ে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান। ১৭২ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির আওতায় মহানগরীর ওয়ার্ডসমূহে ক্ষতিগ্রস্থ ও নতুন কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান।

এখানেই শেষ নয়, থেমে থাকা বহুতল বাণিজ্যিক ভবনগুলোর কাজ দ্রুত গতিতে শেষ করতেও মেয়র গ্রহণ করেছেন যথাযথ উদ্যোগ। বদলে যাচ্ছে নগরী প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘি। এখানে ১৬তলা বিশিষ্ট সিটি সেন্টার ও আধুনিক মসজিদের পাশপাশি দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হচ্ছে ওয়াকওয়ে, বসার স্থানসহ দৃষ্টিনন্দন বিনোদনকেন্দ্র। ঐতিহ্যবাহী ভূবনমোহন পার্কেরও উন্নয়ন করা হচ্ছে।

২৯৩১ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়েছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সকল ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রাস্তা নির্মাণ, ওয়ার্ডসমূহের পানি নিষ্কাশনে উপযুক্ত নর্দমা নির্মাণ,সকল গোরস্থানসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং লাশ দাফনের স্থান উপযুক্তভাবে নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বর্তমান সড়ক ৪ লেন-এ উন্নীত করণ, ৪টি কাঁচা বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, নিরাপদ চলাচলে ফুটপাথ নির্মাণ, প্রাকৃতিক জলাশয় সমূহের উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রকল্পের আওতায় করা হবে।

টেকসই ও উপযুক্ত মানের সড়ক নির্মাণার্থে গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্ট ক্রয়, শিশু পার্কে গেমস্ স্থাপন, উপযুক্তমানের একটি সিটি কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ, ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ডে তিনতলা বিশিষ্ট ওয়ার্ড কার্যালয় কাম কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, যানজট নিরসনে ভদ্রা, শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান চত্ত্বর, বর্ণালী, নতুন বিলসিমলা, বহরমপুর, রাজশাহী কোর্ট এবং নতুনপাড়া রেলওয়ে ক্রসিংয়ে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ এ প্রকল্পের আওতায় করা হবে।

নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দুই বছরে মহানগরী ৩০টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৪ কিলোমিটার নতুন রাস্তা, প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পুরাতন রাস্তার কার্পেটিং কাজ, সাড়ে প্রায় ২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ৩০টি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ও নর্দমার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ওয়ার্ডে দেড় কোটি টাকার সিসি ও কার্পেটিং রাস্তা, ড্রেনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

নতুন ফোরলেন সড়কের পাশে প্রশস্ত ড্রেন ও প্রতি ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। সহজে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও কাদামাটি উত্তোলন করতে ১০টি বড় ড্রেনের পাশে ১০টি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০৫ দিনব্যাপী ড্রেনের কাদামাটি উত্তোলন করা হয়েছে।

বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান ও রাজশাহীর অর্থনীতিকে গতিশীল করতে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে তিনটি শিল্পাঞ্চল অনুমোদন দিয়েছেন। ৪ জুলাই বিসিক শিল্পনগরী-২ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের কেচুয়াতৈল এলাকায় ৫০ একর এলাকায় ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠছে বিসিক-২। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। যেখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে।

২ বছরেই সড়ক, অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নের পাশপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। অত্যাধুনিক ৩টি এসটিএস এর কার্যক্রম চলছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আরো আধুনিকায়নে শিগগিরই আরো ৫টি অত্যাধুনিক এসটিএস নির্মাণ করা হবে। নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত রাখতে গত ১ অক্টোবর মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

২০১৯ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর পদ্মা নদী ড্রেজিং, শহর রক্ষা বাঁধ সম্প্রসারণ ও খাল পুনঃখনন বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সাথে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন তিনি। ভারতের মুর্শিবাদের ধূলিয়ান থেকে রাজশাহী হয়ে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ড্রেজিং করা এবং নদীরধারের উন্নয়নে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে ডিও দেন নগরপিতা।

সিটি মেয়রের উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১০৯টি পরিবার পেয়েছে পাকা বাড়ি। রাসিকের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট শাখার কমিউনিটি হাউজিং ফান্ড থেকে গৃণ নির্মাণ ঋণের মাধ্যমে এই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবর চলতি অক্টোবর পর্যন্ত প্রত্যেকে পরিবার ২ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা গৃহ ঋণ পেয়েছেন। ৩০টি ওয়ার্ডে ১৮৫টি সিডিসি‘র কার্যক্রম চলমান আছে।
দায়িত্বগ্রণের পর পদ্মাপাড়ের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনতে লালন শাহ মুক্তমঞ্চ, পদ্মা গার্ডেনসহ পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। নতুন রুপ পেয়েছে রাজশাহীবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র পদ্মাপাড়। জনগণের দৌড়গোড়ার নাগরিক সেবা পৌছে দিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। এসব আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ যথাযথভাবে বছরব্যাপী উদযাপন করছে সিটি কর্পোরেশন। মুজিবর্ষের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবিতে সাজানো হয় মহানগরী। নগর ভবনে বঙ্গবন্ধু কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে, প্রকাশ করা হয়েছে “উত্তরবঙ্গে বঙ্গবন্ধু” গ্রন্থ। এছাড়া বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী পালন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শিশুদের জন্য ভালোবাসা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদানসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতীহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পূরণ হয় নগরপিতার অন্যতম একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। গণভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন।

ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে ফিরেছে চাঞ্চল্য। ইতোমধ্যে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টসহ নানা ধরনের খেলাধূলা। রাজশাহীতে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব ও নাটোৎসবের বর্ণিল আয়োজন।  প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আলোকায়ন করা হয়েছে। মহানগরীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ১৬টি পোল বসানো হয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সুুউচ্চ বিদ্যুৎ লাইট পোল, যা নগরীকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। প্রতিটি পোলের চারপাশে নূন্যতম আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই পোলের লাইটে আলোকিত হচ্ছে।

শিক্ষানগরীতে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে রাসিক মেয়রের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নতুন দুইটি সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন মেয়র। এছাড়াও মেয়রের চেষ্টায় মহানগরীর ছয়টি সরকারি স্কুল পেতে যাচ্ছে নতুন ভবন।

ইপিআই কার্যক্রমে টানা নয়বার জাতীয়ভাবে দেশসেরা হয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং করোনা সংক্রমণ মোকাবেলা, বাড়ি বাড়ি ও বুথ থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ, করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদানসহ উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রেখে চলেছে সিটি কর্পোরেশন।


২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরে উন্নীত করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ে ডিও লেটার দেন মেয়র। এরপরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর মেয়রের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও নবরুপায়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আব্দুলপুর হতে রাজশাহী পর্যন্ত সিঙ্গেল ব্রডগেজ রেললাইনটি ডাবল লাইনে উন্নীত করতে ২০১৯ সালের ১১ জুলাই রেলমন্ত্রী মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন বরাবর ডিও লেটার দেন মেয়র লিটন। এরপরিপ্রেক্ষিতে রেললাইনটি ডাবল লাইনে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন রেলমন্ত্রী।

রাজশাহীতে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাষ্ট্রদূতদের নগরপিতা রাজশাহীতে আমন্ত্রণ জানিয়ে এই শহরটিতে বিনিয়োগ গুরুত্ব তাদের সামনে তুলে ধরেছেন। ভারত, চীন, নরওয়ে, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত রাজশাহী সফর ও মেয়রে সাথে বৈঠক করেছেন।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মার্চের প্রথম থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত নিরলসভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জনসচেতনাসৃষ্টি, করোনা মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ও ৩০টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করে করণীয় নির্ধারণ, বিদেশ ফেরত ও দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ, নগরীর ২৭টি পয়েন্টে স্যানিটিইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্প্রে, জীবাণুনাশক টানেল স্থাপন, করোনা ল্যাব স্থাপনে সহযোগিতা, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় পিপিই প্রদান, করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের লক্ষাধিক মানুষকে দফায় দফায় ত্রাণ সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াও মেয়রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রদান করা হয়েছে খাদ্য সহায়তা। এছাড়াও করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে খাদ্য সামগ্রী।

 

আরপি/আআ



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top