রাজশাহী রবিবার, ৮ই নভেম্বর ২০২৬, ২৫শে কার্তিক ১৪৩৩

দীর্ঘ ১৭ বছর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে পারেনি মানুষ: মিলন


প্রকাশিত:
৮ নভেম্বর ২০২৬ ২৩:০৩

আপডেট:
৮ নভেম্বর ২০২৬ ২৩:৩৭

নওহাটা বাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল হক মিলন

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর দেশের মানুষ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাস এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান বিকৃত করার নানা অপচেষ্টা করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা বাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি মিলন বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল। এ দিবসের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বর, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুর্ভোগ কাটিয়ে দেশের মানুষ এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে মিলন বলেন, তারেক রহমান দেশের মানুষের সামনে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেছিলেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্ট অনিয়ম ও সমস্যা সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ৩১ দফা বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে এক ধরনের বক্তব্য দিয়ে বাইরে গিয়ে ভিন্ন কথা বলা দ্বিমুখী নীতির পরিচয়। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।

সরকারের মেয়াদে আরও চার বছর তিন মাস সময় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাহিদাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এমপি মিলন বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং গণতন্ত্রের চর্চায় বিশ্বাসী। আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে অন্য কোনো দলকে নির্বাচিত করলে বিএনপি বিরোধী দলের আসনে বসতেও প্রস্তুত রয়েছে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বা হুমকি বরদাশত করা হবে না। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে সভায় নওহাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম পিটার সঞ্চালনা করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্যসচিব অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মুকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ এবং রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কাটাখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, কাটাখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ মামুন এবং কাটাখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

জেডএফ/



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top