রাজশাহী বৃহঃস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১

রাজশাহী কলেজে এ প্রদর্শনী চলছে, চলবে শনিবার পর্যন্ত


প্রকাশিত:
১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১০:১৯

আপডেট:
১৫ নভেম্বর ২০১৯ ১০:২৭

ছবি: রাজশাহী কলেজে বনসাই প্রদর্শনী।

শক্ত কাণ্ডবিশিষ্ট গাছকে নান্দনিকভাবে খর্বাকৃতি করার শিল্পকে বনসাই বলা হয়। প্রাচীন চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে জাপানী ‘বনসাই’ শব্দের উৎপত্তি। দৃষ্টিনন্দন এই বনসাই বাসা-বাড়ি, হোটেল, অফিস ইত্যাদির সৌন্দর্য বাড়ায় কয়েকগুন। এর থেকে পাওয়া যায় অক্সিজেন। সুন্দর এই শিল্পকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিগত ১৯ বছর যাবত রাজশাহীতে বনসাই প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে ‘রাজশাহী বনসাই সোসাইটি’। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাজশাহীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ২০তম বনসাই প্রদর্শনী। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী কলেজে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

এ প্রদর্শনীতে সহায়তা প্রদান করেছে রানার ও বাংলা ক্যাট। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বনসাই একটি জীবন্ত শিল্প। উদ্ভিদ সংরক্ষণে একটি অভিনব কায়দাও। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রজাতির বৃক্ষকে সংরক্ষণ করা যায়। তাই এই শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। এই প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা বেশি লাভবান হয়েছে। তারা গাছ সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারবে বলে মন্তব্য করেন এই শিক্ষাবিদ।

রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ মাহফুজ-ই-তৌহিদ টুটু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রিমিয়াম ব্যাংক রাজশাহী শাখার ইভিপি এন্ড জোনাল হেড সেলিম রেজা খান, বনসাই সোসাইটির সহ-সভাপতি রেহেনা চৌধুরি, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার মোর্শেদ প্রমূখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বনসাই সোসাইটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, শির্ক্ষাথীসহ সাধারণ দর্শনাথীরা উপস্থিত ছিলেন।

এবছর প্রদর্শনীতে ৪৫ জন বনসাই শিল্পীর তৈরী দুই শতাধিক বনসাই প্রদর্শিত হচ্ছে। দেশি-বিদেশী প্রায় ৪০ প্রজাতির বনসাইয়ের মধ্যে রয়েছে কামিনী, জিলাপি, চাইনিজ বট, পাইকড়, বট, তেঁতুল, শেওড়া, বাংলা বট, ঝুমুর, ডুমুর, থাই চেরি, সেফিলেরা, কৃষ্ণচূড়া, ফাইকাস, ফুকেনটি, বাগানবিলাস, লাইকড়, ফুকেট টি, বৈচি, কদবেল, পেন্টাস, বেনজামিন, রেটুসা, রামফি, গোল্ডেন, ভাইরেন্স, বাওবাব, জেড, ফাইকাস লংআইল্যান্ড, থাইচেরী, রঙ্গন, ছাতিমসহ নানারকম বনসাই প্রদর্শিত হচ্ছে।

রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ মাহফুজ-ই-তৌহিদ টুট বলেন, বনসাই হচ্ছে লিভিং আর্ট বা জীবন্ত শিল্প। সারা পৃথিবীতে এর প্রসার ঘটেছে। আমাদের দেশে বনসাইয়ের প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, শুধু শিল্প নয়, বাণিজ্যিকভাবেও এটা ছড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের ছেলে-মেয়েরা বর্তমানে এটা থেকে কিছুটা আয় করতে শুরু করেছে। এটার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম গাছ সম্পর্কে জানতে পারবে। বর্তমানে যে ফ্ল্যাট ট্র্যাডিশন শুরু হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে সবুজের ছোঁয়া ও অক্সিজেন পেতে বনসাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সৈয়দ মাহফুজ-ই-তৌহিদ টুট জানান, সারাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ বনসাই রাজশাহী বনসাই সোসাইটি সরবরাহ করে থাকে। এ শিল্পকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে রাজশাহী বনসাই সোসাইটির পঞ্চাশোর্ধ সদস্য। এর বাইরেও বনসাই সম্পর্কে মানুষকে আগ্রহী করতে ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কর্মশালারও আয়োজন করে বলে জানান এই বনসাই শিল্পী।

প্রদর্শনী আগামীকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) ও পরের দিন শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্ববান্ধব মেলা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার মুর্শেদ।

 

 

আরপি/এসআর

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top