রাজশাহীসহ ৩ জেলায় হতে পারে বিশেষ লকডাউন

ঈদ পরবর্তীতে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে শনাক্তের হার ৪০ শতাংশের ওপরে হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি জেলা পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সংক্রমণ বাড়লেই সেগুলোতে লকডাউন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, খুলনা ও সাতক্ষীরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও খুলনায় লকডাউন দেওয়া হতে পারে। সরকার এখনও তাদের সিদ্ধান্ত দেয়নি বলেও জানান তিনি।
ডা. আবুল বাসার বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যখন সংক্রমণের হার অনেক বেড়ে গেলো তখন সেখানে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সংক্রমণ হার বাড়ার পর লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এর আশপাশের জেলা, যেমন- সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও খুলনায়ও সংক্রমণের হার বাড়ছে।
অধ্যাপক খুরশিদ আলম বলেন, ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে এমন আট জন রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের। এদের সবার ভারতে ভ্রমণের রেকর্ড রয়েছে। কিন্তু তারা সবাই ভালো আছেন। তবে লকডাউন করতে হবে যদি সংক্রমণের হার অনেক বেড়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত অন্যান্য জেলায় সেভাবে আমরা দেখছি না।
লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া তিন জেলার মধ্যে রাজশাহীতে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা শনাক্তের হার। বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার ছিল ৫২.৫ শতাংশে। শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলার ১১৪ জনের করোন শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ও রামেক হাসপাতালের পৃথক পিসিআর ল্যাবের জেলার ২১৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
গত তিনদিনের করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার রাজশাহী জেলার করোনা শনাক্তের হার ছিল ২১.৭ শতাংশ। সেটি বুধবার দ্বিগুন বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। আর বৃহস্পতিবার তা ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২.৫ শতাংশে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ২৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর ১১৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৯ জন, নওগাঁর ২৬ জন, নাটোরের ৪৪ জন, জয়পুরহাটের ১৮ জন, বগুড়ার ১৭ জন, সিরাগঞ্জের সাতজন ও পাবনার ১১ জন।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড ও করোনা আইসিউতে তারা মারা যান বলে জানান রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যে ১০ জন মারা গেছে তাদের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজিটিভ। বাকি পাঁচজনের করোনা উপসর্গ ছিল। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। নিহতদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচজন, রাজশাহীর তিনজন, নাটোরের একজন ও কুষ্টিয়ার একজন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, রাজশাহীর করোনা পরিস্থিনি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা চলছে। লকডাউন এখন দেয়া হয়নি।
সারা দেশে ঈদ পরবর্তী সংক্রমণ বাড়ার যে শঙ্কা ছিল, সেটিই এখন সত্যি হতে যাচ্ছে। ঈদের পর আবার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সরকারের বিধিনিষেধ না মেনে শপিং ও গ্রামের বাড়ি যাওয়ার ঘটনায় ঈদের পর আবারও সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে।
বিশেষ করে এই সংক্রমণ বাড়ছে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায়। কারণ ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি যাত্রী। তাদের অনেকে করোনা পজিটিভ হয়েছেন, শরীরে ভারতীয় ধরণও পাওয়া গেছে।
এদিকে মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৩১ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫১১ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৫৮ জন। দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪৩ জন।
শুক্রবার (২৮ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৬ হাজার ২১১ জন। এদিন মোট করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬০৬ জনের। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দেশে করোনায় ২২ জন মারা যান, আর শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ২৯২ জনের।
আরপি/এসআর-০২
বিষয়: বিশেষ লকডাউন রাজশাহী
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: